আয়ুষ সেবা খাতে কর্মশক্তিতে নারীদের অংশ ৪৩ শতাংশ; বহু প্রধান ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের বেশি
আয়ুর্বেদ, ইউনানি, সিজুয়া এবং হোমিওপ্যাথি (আয়ুর্ভেদ) সেবা খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ৪৩ শতাংশে পৌঁছেছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নারী কর্মীদের সংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি, যা কর্মশক্তিতে লিঙ্গ সমতা একটি ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি করছে।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
ভারতীয় আয়ুর্বেদ, ইউনানি, সিদ্ধ, হোমিওপ্যাথি এবং হোমিওপ্যাথি (আয়ুশ) মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত সেবা খাতে নারীদের অংশগ্রহণে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আয়ুশ সেবা খাতের মোট কর্মীশক্তির মধ্যে নারীদের অংশীদারিত্ব এখন 43 শতাংশে পৌঁছে গেছে। এই পরিসংখ্যানটি কেবল প্রতিষ্ঠানগত উন্নয়নের প্রমাণ নয়, বরং এটি দেখাচ্ছে যে নারীরা এই খাতে পুরুষদের সাথে সমান মাত্রায় অংশগ্রহণ করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়ুশের মতো ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা খাতে নারীদের সংখ্যার বৃদ্ধি রোগী সেবাকে আরও সংবেদনশীল ও কার্যকর করে তুলেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আয়ুশ মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত অনেক প্রধান খাত ও বিভাগে নারী কর্মীদের সংখ্যা 50 শতাংশেরও বেশি। এই তথ্যটি দেখাচ্ছে যে নির্দিষ্ট কিছু উপ-খাতে নারীরা এখন সংখ্যায় প্রাধান্য বিস্তার করছেন। এই সমীকরণটি নতুন জীবন দিয়েছে, কারণ এর ফলে টিমওয়ার্কে বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারী দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ অবদান হতে শুরু করেছে। আয়ুশ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বিশেষ সুবিধার প্রভাব এই বৃদ্ধিতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
এই খাতে নারীদের বৃদ্ধিশীল অংশগ্রহণের পেছনে একাধিক কারণ দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে সরকারি চাকরিতে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার অনুভূতি মানুষের, বিশেষ করে নারীদের আকৃষ্ট করে, অন্যদিকে আয়ুশ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে সহজলভ্যতাও এর অবদান রেখেছে। অনেক রাজ্যে আয়ুশ কেন্দ্রে নারী চিকিৎসক এবং প্যারামেডিকেল স্টাফের নিয়োগে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যার ফলে গ্রামীণ এবং শহুরে উভয় অঞ্চলে সেবার মান উন্নত হয়েছে।
যদিও 43 শতাংশের এই পরিসংখ্যান অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়, তবুও বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়েছেন যে লিঙ্গ সমতা সত্যিকারের অর্থে পৌঁছানোর জন্য আরও কাজের প্রয়োজন। অনেক উচ্চপদ ও ব্যবস্থাপনামূলক পদে নারীদের উপস্থিতি এখনও সীমিত, যা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এখন বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং ক্যারিয়ার উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে নারী কর্মীরা কেবল সংখ্যায় নয়, অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের ক্ষমতায়ও এগিয়ে যেতে পারেন।
আয়ুশ সেবা খাতের এই প্রবণতা বিবেচনা করে, ভবিষ্যতে নারীদের অংশীদারিত্ব আরও বাড়ার আশা করা হচ্ছে। এই উন্নয়ন কেবল স্বাস্থ্যসেবা খাতে পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে না, বরং সামাজিক স্তরেও নারী ক্ষমতায়নের বার্তাকে শক্তিশালী করবে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে করা উদ্যোগের প্রশংসা করা যায়, কারণ এর ফলে এমন একটি কর্মীশক্তি গড়ে উঠছে যা সমাজের প্রতিটি শ্রেণির স্বাস্থ্য প্রয়োজন বুঝে এবং কার্যকরভাবে পূরণ করে।