উপর সোলার প্যানেল, নিচে লহলহাবে ফসল: ভারত মণ্ডপমে ৭তম এগ্রিভোল্টাইক ওয়ার্ল্ড কনফারেন্সের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী শিভরাজ সিংহ চৌহান শুরুকরণ করলেন
মন্ডপমে আয়োজিত ৭ম এগ্রিভোল্টাইক ওয়ার্ল্ড কনফারেন্সের সূচনা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিভরাজ সিং চৌহান করেছেন, যেখানে উপরে সেল প্যাক এবং নিচে কৃষি মডেল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
ভারতের ওড়িশা রাজ্যের মণ্ডপমে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৭ম এগ্রিভোল্টাইক ওয়ার্ল্ড কংফারেন্সের উদ্বোধন করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি 'উপরে সোলার প্যানেল, নিচে ঝোলাফল' (উপরে সোলার প্যানেল, নিচে ফসল) স্লোগানে আকৃষ্ট করেছে, যা আধুনিক কৃষি এবং নবায়নযোগ্য শক্তির অন্তর্ভুক্তিমূলক মডেলকে প্রতিফলিত করে। এই কংফারেন্সের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে কৃষি এবং শক্তি খাতের বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং নীতি নির্মাতাদের একত্রিত করে এমন সমাধান নিয়ে আলোচনা করা, যা জমি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা করে।
শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান তাঁর অভিবাদন বক্তৃতায় এই প্রযুক্তিগত বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানিয়েছেন যে, এগ্রিভোল্টাইক্স, যা সহ-স্থানীয়কৃত সোলার এবং কৃষি হিসেবেও পরিচিত, ভারতের জন্য একটি নতুন মাত্রা উপস্থাপন করছে। এই মডেলে সোলার প্যানেলগুলো উঁচুতে স্থাপন করা হয়, যাতে নিচে পড়া আলো থেকে ফসলগুলো স্বাস্থ্যকরভাবে বিকশিত হতে পারে। এর ফলে শুধুমাত্র কৃষি আয় বৃদ্ধি পায় না, বরং কৃষকদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্পও পাওয়া যায়, যা তাদের আয়ের স্থায়ী বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
এই ওয়ার্ল্ড কংফারেন্সে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ সফলতার গল্প শেয়ার করেছেন। মণ্ডপমকে এই অনুষ্ঠানের স্থান হিসেবে নির্বাচনের কারণ হলো এখানে পরিবেশগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ কৃষির ঐতিহ্য রয়েছে এবং সর্বশেষ প্রযুক্তি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন যে, এই কংফারেন্সের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরাসরি প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যাপক পরিকল্পনারও উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় কৃষি ব্যবস্থা জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় শক্তিশালী হবে এবং শক্তি নিরাপত্তা খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত এই উদ্যোগটি নিশ্চিত করেছে যে, কৃষি এবং শক্তি উৎপাদন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পূরক। যখন প্রযুক্তি এবং ঐতিহ্যের সঠিক ভারসাম্য পাওয়া যায়, তখন তার সুফল সমাজের প্রতিটি শ্রেণির কাছে পৌঁছায়। শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান শেষে সকল অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন যে, এই ধরনের উদ্যোগই দেশকে বিশ্বমঞ্চে কৃষি এবং শক্তি খাতে নেতৃত্বদানকারী হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। এই কংফারেন্সের আলোচনাগুলো ভবিষ্যতে জাতীয় নীতি নির্ধারণেও অনুপ্রেরণামূলক প্রমাণিত হবে, যার ফলে কৃষকদের জীবনমান উন্নতি এবং দেশের শক্তি নিরাপত্তা উভয়ই শক্তিশালী হবে। মণ্ডপমের এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি সম্মেলন ছিল না, বরং ভবিষ্যতের কৃষির জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক মঞ্চ হিসেবে পরিণত হয়েছে।