কেন্দ্র সরকার রাজ্য সরকারগুলিকে কর হস্তান্তরের মাধ্যমে ১,০৯,০১৯ কোটি টাকা প্রদান করেছে। আসন্ন উৎসব মৌসুমের কথা মাথায় রেখে এবং রাজ্যগুলিকে মূলধন ব্যয়ে ত্বরণ আনতে এবং উন্নয়ন ও কল্যাণ সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য অর্থ সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্র সরকার কর হস্তান্তরের অগ্রিম কিস্তি প্রদান করেছে।
কেন্দ্রীয় সরকার আগামী উৎসব মৌসুম এবং রাজ্যগুলিতে মূলধন ব্যয় ও উন্নয়ন-কল্যাণ কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে কর হস্তান্তরের মাধ্যমে ১,০৯,০১৯ কোটি টাকার অগ্রিম কিস্তি প্রদান করেছে।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
কেন্দ্র সরকার আজ ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজ্য সরকারগুলিকে কর হস্তান্তরের আকারে ১,০৯,০১৯ কোটি রুপির অগ্রিম কিস্তি প্রদান করেছে। এই অর্থ আগামী উৎসব মৌসুমকে দৃষ্টিতে রাখা হয়েছে এবং রাজ্যগুলিকে মূলধন ব্যয়ে গতি আনতে এবং উন্নয়ন ও কল্যাণ সংক্রান্ত খরচের জন্য অর্থ সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাজেটে এই ধরনের হস্তান্তরকে “কেন্দ্র-রাজ্য কর হস্তান্তর”-এর আওতায় রাখা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য রাজ্যগুলির আর্থিক অবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ করা এবং তাদের নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো সময়মতো বাস্তবায়নে সক্ষম করা। ১,০৯,০১৯ কোটি রুপির এই অগ্রিম কিস্তিটি রাজ্যগুলির কাছে সময়মতো সরবরাহ করা তাদের বাজেটে আসা আর্থিক ঘাটতি কমানোর এবং জনসেবাগুলির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়েছে।
এই হস্তান্তরের আওতায়, রাজ্যগুলি তাদের বার্ষিক বাজেট অনুযায়ী ধাপে ধাপে অর্থ পাচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলিকে এই অর্থ বিশেষভাবে মূলধন ব্যয়ের জন্য, যেমন সড়ক, সেতু, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন প্রকল্প এবং অন্যান্য অবকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য সরবরাহ করা হবে। এছাড়াও, এই অর্থ সামাজিক কল্যাণ পরিকল্পনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচির জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে।
কেন্দ্রীয় রাজস্ব বিভাগ (CFR)-এর মতে, এই হস্তান্তর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত মোট কর হস্তান্তরের অংশ। এই বছরের জন্য মোট কর হস্তান্তর ৫,১২,০০০ কোটি রুপি, যার মধ্যে ১,০৯,০১৯ কোটি রুপির অগ্রিম কিস্তি রাজ্যগুলিকে প্রদান করা হচ্ছে। এই অর্থ রাজ্যগুলির বাজেটে আসা রাজস্ব ঘাটতি কমানোর এবং তাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে সহজ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রাজ্য সরকারগুলি এই হস্তান্তরের বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী অনিল বালাভাণী বলেছেন, “এই অগ্রিম হস্তান্তর আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো সময়মতো বাস্তবায়নে সাহায্য করবে এবং আমাদের নাগরিকদের উন্নত সেবা প্রদানে সক্ষম করবে।” একইভাবে, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. সি. বিজয়নও এই সিদ্ধান্তকে “রাজ্যগুলির জন্য একটি শক্তিশালী আর্থিক সহায়তা” বলে উল্লেখ করেছেন।
কেন্দ্র সরকার এটিও স্পষ্ট করেছে যে এই হস্তান্তর শুধুমাত্র মূলধন ব্যয়ের জন্য নয়, বরং রাজ্যগুলির সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচির জন্যও সরবরাহ করা হবে। সরকারের মতে, উৎসব মৌসুমে বিশেষভাবে কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিনিয়োগ মানুষের আর্থিক অবস্থায় উন্নতি আনবে।
এই হস্তান্তরের পর, রাজ্যগুলিকে তাদের বাজেট ব্যবস্থাকে পুনরায় ভারসাম্যপূর্ণ করার এবং আসা মাসগুলিতে পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করার সুযোগ পাবে। রাজ্য সরকারগুলিকে এটিও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাদের এই অর্থের কার্যকর ব্যবহার করতে হবে এবং সময়মতো রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
শেষ পর্যন্ত, কেন্দ্র সরকার এই পদক্ষেপটিকে “রাজ্যগুলির আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের প্রতি প্রতিশ্রুতির” প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর এই হস্তান্তর রাজ্যগুলিকে আসা উৎসব মৌসুমে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে এবং তাদের উন্নয়ন ও কল্যাণ কর্মসূচিগুলো সময়মতো বাস্তবায়নে সাহায্য করবে।