ভারতের রাষ্ট্রপতি নাসিকে সিংহস্থ মহাকুंभের পতাকা-স্তম্ভ পূজন, ধ্বজা পূজন এবং ধ্বজারোহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন
ভারতের রাষ্ট্রপতি নাসিকে আয়োজিত সিংহস্থ মহাকুম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে পতাকা-স্তম্ভ পূজা, পতাকা পূজা এবং পতাকা উত্তোলন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
ভারতের রাষ্ট্রপতি রবিবার, ২০২৬ সালের ১১ নভেম্বর তারিখে মহারাষ্ট্রের নাসিকের ত্রাইম্বকেশ্বর মন্দির প্রাঙ্গণে সংঘটিত সিংহস্থ মহাকুম্বের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই ঐতিহাসিক উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি পতাকা-স্তম্ভ পূজা, পতাকা পূজা এবং পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা কুম্ভ মেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে।
সবগুলো অনুষ্ঠান গভীর ধর্মীয় পরিবেশ এবং ভক্তিমূলক আবেগের আবহে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতি প্রথমে পবিত্র গঙ্গাজলে স্নান করে পতাকা-স্তম্ভের পূজা করেন। এরপর, তিনি নিজেই পতাকাকে পূজা-আর্চনার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন, যা কুম্ভের আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতা এবং সনাতন ধর্মের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতীক। শেষে, পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়, যা সিংহস্থ মহাকুম্বকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে তার আধ্যাত্মিক যাত্রার সূচনা করে।
নাসিক শহরে কুম্ভের প্রস্তুতি দেখে নিরাপত্তা এবং ব্যবস্থাপনার জন্য কঠোর তদারকি জারি করা হয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ বাহিনী অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনের নিশ্চয়তা দেয়। লক্ষাধিক ভক্ত এবং আস্থাবানদের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার জন্য প্রাঙ্গণে সমাবেশ হয়েছিল। বক্তারা এবং আচার্যরা তাদের ভাষণে কুম্ভের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক ঐক্যের বার্তা উপস্থাপন করেছেন।
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে দেশজুড়ে ব্যাপক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। সিংহস্থ মহাকুম্ব কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি ভারতীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে প্রতিফলিত করে, যা শতাব্দী পুরনো ঐতিহ্যকে জীবন্ত রাখে। নাসিকে এই আয়োজন পর্যটন এবং আধ্যাত্মিক যাত্রার নতুন মাত্রা স্থাপনে সহায়ক প্রমাণিত হবে। স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং ব্যবসায়ী সমিতি এই কুম্ভ থেকে আসা অর্থনৈতিক লাভ এবং অঞ্চলীয় উন্নয়নের আশা প্রকাশ করছে।
সংবাদ প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পতাকা উত্তোলনের পরে কুম্ভ এলাকায় মন্দির এবং ঘাটের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে, যেখানে ভক্তরা পবিত্র স্নান করতে পারেন। এই প্রক্রিয়া আগামী কয়েক মাস ধরে চলবে, যার সময় বিভিন্ন ধর্মীয় সমাবেশ, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং আধ্যাত্মিক আলোচনা আয়োজিত হবে। ভারতের রাষ্ট্রপতির এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ দেশের ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি তার প্রতিশ্রুতির প্রতীক। নাসিকে এই কুম্ভ মেলা বিদেশি এবং ভারতীয় উভয় ভক্তের জন্য একটি আকর্ষণের কেন্দ্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সমগ্রভাবে, সিংহস্থ মহাকুম্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে আস্থা, আবেগ এবং ব্যবস্থাপনার একটি অনন্য মিলন দেখা গেছে। এই আয়োজন নাসিকের ঐতিহাসিক পরিচয়কে বিশ্বস্তরে প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।