এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে অংশগ্রহণের সময় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মূল পাঠ
প্রধানমন্ত্রী এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটের প্ল্যাটফর্ম থেকে ভারতের বৈশ্বিক ভূমিকা ‘বৃহৎ নেতৃত্ব’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, যেখানে তিনি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উদ্যোগ এবং তরুণ প্রজন্মকে ক্ষমতায়ন করার ক্ষেত্রে তার সরকারের নীতিমালা নিয়ে আলোকপাত করেছেন।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটের প্রধান মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের মাধ্যমে ভারতের নতুন দিকনির্দেশনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন। এই বহুমাত্রিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় প্রধানমন্ত্রী যুক্তি দিয়েছেন যে, বর্তমান বিশ্ব কেবল একটি দেশের অর্জনের মাধ্যমে নয়, বরং সমন্বিত প্রচেষ্টা ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত এখন কেবল একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নয়, বরং বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ‘বৃহৎ শক্তি’ (Great Power) হিসেবে উঠে আসছে।
ভাষণের সময় প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে ‘উন্নয়নশীল বিশ্ব’ (Developing World)-এর কণ্ঠস্বর তুলে ধরার প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ভারত নিজের অর্থনৈতিক শক্তি এবং বিশাল জনসংখ্যার সুবিধা নিয়ে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যেখানে বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি উল্টাপাল্টা (Inversion) প্রক্রিয়াটিকে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যার ফলে এখন পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোও বিশ্ব নীতি নির্ধারণের টেবিলে সমান অধিকার দাবি করছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও শক্তি সংকটের প্রেক্ষাপটে, প্রধানমন্ত্রী ভারতের ‘সৌর শক্তি রাজধানী’ হওয়ার দিকে অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, সম্পদ সংকটের সত্ত্বেও, ভারত নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য করে বিশ্বের কার্বন নিঃসরণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি দাবি করেছেন যে, ভারতের এই নীতি শুধুমাত্র পরিবেশের জন্য উপকারী নয়, বরং এটি বিশ্বকে শক্তি নিরাপত্তার একটি নতুন মডেল উপস্থাপন করছে, যা সস্তা, স্থিতিশীল এবং পরিষ্কার শক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা।
যুব প্রজন্ম ও শিক্ষা নিয়ে কথা বলার সময়, প্রধানমন্ত্রী ‘স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি’ (Swatantrata ka Wada) কে শূন্য-মৌলিক কাঠামো (Zero-Base) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, যেখানে এখন শুধুমাত্র স্কুলের সংখ্যা নয়, বরং শিক্ষার মান এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেছেন যে, ১৪০ কোটি জনসংখ্যা, যাদের অধিকাংশই যুবক, তাদের বিশ্ব প্রতিযোগিতার ময়দানে দাঁড় করানোর জন্য দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি এই বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন যে, ভারত নিজের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং ধর্মীয় সহনশীলতার মাধ্যমে বিশ্ব পর্যায়ে শান্তি ও সংলাপের নেতৃত্বদানকারী শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
ভাষণের শেষে, প্রধানমন্ত্রী বিদেশি বিনিয়োগকারী, শিল্পপতি এবং বিশ্ব নীতি নির্মাতাদের ভারতে বিনিয়োগ এবং সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, ভারতের দুয়ার এখন সম্পূর্ণ খোলা এবং এখানকার বাজার, আইনি স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিশ্বের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে, ভারত এই বার্তা দিয়েছে যে, আসন্ন দশকে বিশ্ব ব্যবস্থার কেন্দ্র কেবল পশ্চিম পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভারত এবং দক্ষিণ এশিয়া এতে একটি প্রভাবশালী এবং নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।