দিল্লিতে বিজয় দশমী উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মূল পাঠ
দিল্লির বিজয় দশমি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সানাতন ধর্মের বৈশ্বিক স্বীকৃতি, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয় এবং জাতি গঠনের জন্য ঐক্যের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিশাল বিজয় দশমী উৎসবের প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সম্বোধন করেছেন। এই উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লক্ষাধিক ভক্ত ও পণ্ডিতদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর ভাষণে ভারতীয় সংস্কৃতির গৌরবময় ঐতিহ্যু এবং আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জগুলির গভীর আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিজয় দশমী কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি নৈতিক বিজয়ের প্রতীক, যেখানে সত্য ও ধর্মের মূল্যবোধের অপরাজেয় প্রভাব প্রকাশ পায়।
সম্বোধনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি এবং এর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান বিশ্বে অশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের ঝুঁকির মধ্যে, ভারতীয় সংস্কৃতির শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা বিশ্বের জন্য আলোকসূচকের কাজ করছে। মঞ্চে থেকে উঠে আসা উৎসাহের সাথে তিনি বলেছেন যে, আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সাথে যুক্ত করতে হবে, যাতে আমরা আগামী প্রজন্মকে একটি শক্তিশালী ও অগ্রগতিশীল রাষ্ট্রের চিহ্ন হিসেবে উপহার দিতে পারি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মকে সম্বোধন করে রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন যে, বিজয় দশমী দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অহংকার ও অন্ধবিশ্বাস থেকে মুক্ত হয়ে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও প্রতিষ্ঠান দ্বারা আয়োজিত বিজয় দশমী উৎসবের প্রশংসা করেছেন, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে এই উৎসবটি সারা দেশে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের পরিবেশ সৃষ্টি করছে।
ভাষণের সময়, প্রধানমন্ত্রী কানপুর এবং অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে চলমান আয়োজনগুলোর উল্লেখ করে ধর্মীয় ঐতিহ্যের আধুনিক বিস্তার কীভাবে ঘটছে তা তুলে ধরেছেন। তিনি ভক্তদের প্রতি আবেদন করেছেন যে, তারা ধর্মকে কেবল আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ রাখবেন না, বরং জীবনযাপনের একটি পদ্ধতি হিসেবে তা গ্রহণ করবেন। এই প্রেক্ষাপটে, তিনি 'অহিংসা' এবং 'সত্য' এর মূল্যবোধগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সকল নাগরিককে দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
উৎসবের শেষ অংশে, প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সকল পণ্ডিত, সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যাদের সহযোগিতায় এই উৎসব সফলভাবে আয়োজিত হতে পেরেছে। তিনি আশা ব্যক্ত করেছেন যে, এই বিজয় দশমী নতুন ভারত গঠনের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক মোড় হিসেবে প্রমাণিত হবে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে, তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন যে, আসন্ন সময়ে ভারত ধর্ম, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশ্ব নেতা হিসেবে আবির্ভূত হবে। এই সম্বোধন উপস্থিত জনসমাবেশে উচ্ছ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যেখানে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা গ্রহণ করেছেন।