নতুন দিল্লিতে ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে প্রধানমন্ত্রী এর বক্তব্যের মূল পাঠ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন দিল্লিতে আয়োজিত ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ভিত্তি, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার উপর জোর দিয়ে দেশের শিল্প রূপান্তরের দৃষ্টি উপস্থাপন করেছেন।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
নতুন দিল্লিতে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরাম (Bloomberg New Economy Forum)-এর প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি বিস্তৃত ও দৃষ্টিসম্পন্ন ভাষণ প্রদান করেন। এই উচ্চস্তরের অর্থনৈতিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় অর্থনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা এবং উদ্ভাবন-ভিত্তিক উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ফোরামে বিশ্বের শীর্ষ নির্বাহী, বিনিয়োগকারী, সাংবাদিক ও নীতি নির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন, যাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি আলাপ করেন।
ভাষণের সময় প্রধানমন্ত্রী যুক্তি দেন যে ভারত আর কেবল একটি বড় বাজার নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে উঠছে। তিনি 'মেক ইন ইন্ডিয়া' প্রচারণার সফলতার প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা করেন কিভাবে দেশ দ্রুত একটি বিশ্বমানের প্রস্তুতকারক হয়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স এবং সবুজ শক্তির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতে চলমান বিনিয়োগের উপর জোর দেন। তিনি জানান যে ভারত কেবল উৎপাদন (manufacturing)-এ নয়, ডিজিটাল অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ক্ষেত্রেও একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ, যেমন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি সংকট, এর মধ্যে ভারতের প্রস্তাবিত সমাধানগুলিও আলোচনা করেন। তিনি 'ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন' (WTO)-এ সংস্কারের দাবিগুলি পুনরায় উল্লেখ করেন এবং দেশপ্রেমের সাথে বৈশ্বিক সহযোগিতার ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে ভারতের উন্নয়ন মডেল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বাজার-ভিত্তিক পদক্ষেপের একটি অনন্য সমন্বয়, যা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
ফোরামের সময় প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগকারীদের আশ্বাস দিয়ে বলেন যে ভারতীয় সরকার নিয়মে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি যুব প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপরও জোর দেন, যা ভারতের জনসংখ্যাগত উপকার (demographic dividend) শক্তিশালী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে ভারতের অর্থনীতি এখন আরও বৈচিত্র্যময় ও সহনশীল হয়ে উঠছে এবং বৈশ্বিক ঝুঁকির প্রতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
এই সভায় ব্লুমবার্গের প্রধান সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় অর্থনৈতিক নীতিগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি রাজস্ব সংগ্রহে বৃদ্ধি, বড় কোম্পানির তালিকাভুক্তি ও শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীর আস্থার স্তরেও আলোকপাত করেন। প্রধানমন্ত্রী এই ভাষণ কেবল ভারতীয় জনগণের জন্য একটি বিশ্বাসের বার্তা নয়, বরং বৈশ্বিক ব্যবসা জগতকে স্পষ্ট সংকেত দেয় যে ভারত আগামী দশকে বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রে থাকবে।
এই ফোরামটি নতুন দিল্লিতে আয়োজন করা হয়, যা নিশ্চিত করে যে ভারত এখন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক আলোচনার একটি প্রধান কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী এই ভাষণ দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক যাত্রার দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করেন, যেখানে উদ্ভাবন, স্থায়িত্ব ও সহযোগিতা তিনটি মূল স্তম্ভ হিসেবে অব্যাহত থাকবে।