কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ডিব্রুগড় থেকে প্রথম আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী যাত্রা শুরু করবেন
কেন্দ্রীয় উপরাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ডিব্রুগড় রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়া প্রথম আন্তর্জাতিক মালবাহী ট্রেনকে সবুজ সংকেত দেখাবেন। এই যাত্রা এলাকাভিত্তিক বাণিজ্য ও লজিস্টিক্সের জন্য একটি নতুন মাইলফলক।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
৫ অক্টোবর, ২০২৬ – আসামের দিব্রুগড় জেলায় একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, যাকে আসামের আঞ্চলিক স্বার্থের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, শীঘ্রই দিব্রুগড় রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী প্রথম আন্তর্জাতিক মালবাহী ট্রেনকে সবুজ সংকেত দেখাবেন। এই ঘটনাটি কেবল রেলওয়ের ইতিহাসের জন্য একটি বড় অর্জন নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের বাণিজ্যিক ভূগোলকে পরিবর্তনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও গণ্য হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই যাত্রার উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনকে ত্বরান্বিত করা এবং বাণিজ্যিক সুযোগগুলোকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া। দিব্রুগড় থেকে শুরু হওয়া এই ট্রেনটি সরাসরি বাংলাদেশের প্রধান বন্দর এবং শিল্প কেন্দ্রগুলির সাথে সংযুক্ত হবে, যা ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি এবং বিদেশি পণ্যের আমদানিতে বিলম্ব কমাতে সাহায্য করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন রেলপথ আঞ্চলিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের অর্থনৈতিক সুবিধা পৌঁছে দেবে।
শ্রী সোনোয়ালের এই ট্রেনকে সবুজ সংকেত দেখানো কেবল প্রতীকী একটি পদক্ষেপ নয়, বরং কেন্দ্র সরকারের "মেক ইন ইন্ডিয়া" এবং "জল-জম-জঙ্গল-জন" পরিকল্পনাগুলোকে আসামে বাস্তবায়নের প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতীক। এই উপলক্ষে দিব্রুগড় রেলওয়ে স্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দেখার জন্য প্রচুর সংখ্যক মানুষের, সামাজিক ও সরকারি প্রতিনিধিদের আগমন হচ্ছে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এই মালবাহী ট্রেনটি আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং এটি ভারী ওজনের পরিবহনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের পরিবেশগত প্রভাব প্রতিরোধেও সহায়ক হবে, কারণ রেলপথের মাধ্যমে পরিবহন কার্বন নির্গমন কমায়।
এই উদ্যোগের প্রভাব সরাসরি দিব্রুগড় এবং তার আশেপাশের জেলাগুলো যেমন সিলেট, শিবসাগর এবং করিমগঞ্জের ওপর পড়বে, যেখানে কৃষি, চা উৎপাদন এবং হস্তশিল্পের ওপর ভিত্তি করে অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত পারাপার রেল পরিষেবা সম্প্রসারণ এই পণ্যগুলো বন্দর পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করবে, যার ফলে রপ্তানিতে বৃদ্ধি দেখা দেবে। একই সাথে, বাংলাদেশ থেকে আসা কাঁচামাল এবং যন্ত্রপাতি পাওয়াও সহজ হবে, যা স্থানীয় শিল্পগুলোর খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
আসাম সরকার এবং কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে এই পথের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য এই রেলপথ একটি বড় কৌশলগত জয়। শ্রী সোনোয়াল গত কয়েক বছর ধরে এই দাবি তুলেছিলেন যে উত্তর-পূর্ব ভারতকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূলধারায় যুক্ত করতে হবে, এবং আজ তার এই উদ্যোগ সফলভাবে ফল দিচ্ছে। এই যাত্রা শুরু হওয়ার পরে, সম্ভবত ভবিষ্যতে যাত্রী পরিষেবাও এই পথে যুক্ত করা হতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। দিব্রুগড়ের মানুষ এই ঐতিহাসিক দিনকে উৎসাহের সাথে উদযাপন করছে, কারণ এটি তাদের অঞ্চলের উন্নয়নের নতুন শুরু।