বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করতে ভারত-বেলজিয়াম-লুক্সেমবার্গ অর্থনৈতিক ইউনিয়নের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের ১৯তম অধিবেশন লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত
লাক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ১৯তম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের অধিবেশন ভারত, বেলজিয়াম ও লাক্সেমবার্গের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় গতি আনে, যেখানে শক্তি, অর্থনীতি ও ডিজিটাল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে নতুন কৌশল নিয়ে সম্মতি হয়।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারত, বেলজিয়াম এবং লাক্সেমবার্গের মধ্যে যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (JEC) ১৯তম বার্ষিক অধিবেশন লাক্সেমবার্গ শহরে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণের জন্য একটি দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক ছিল। বৈঠকে উভয় দেশের সিনিয়র অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা এবং নীতি নির্মাতারা বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলির বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন।
অধিবেশন চলাকালীন শক্তি নিরাপত্তা, সবুজ শক্তির রূপান্তর এবং আর্থিক সেবায় সহযোগিতাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভারত এবং বেলজিয়াম-লাক্সেমবার্গ অর্থনৈতিক ইউনিয়নের (BEU) প্রতিনিধিরা নবায়নযোগ্য শক্তি প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ গবেষণায় সম্মতি জানিয়েছেন, যা উভয় দেশের মধ্যে শক্তি খাতে ইতিবাচক বিনিময়ের সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করেছে। এছাড়াও, আর্থিক খাতে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ব্যাংকিং নিয়মকানুন এবং সঞ্চয় পরিকল্পনাকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যা ভারতীয় বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোক্তাদের ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদানের আশা জাগিয়েছে।
বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনার সময় উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বাধা দূর করার উপর জোর দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বাণিজ্যিক হাব হিসেবে পরিচিত বেলজিয়াম-লাক্সেমবার্গ অর্থনৈতিক ইউনিয়ন ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। এই অধিবেশনে কৃষি, ফার্মাসিউটিক্যালস, হার্ডওয়্যার এবং রাসায়নিক পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নতুন পথ অনুসন্ধান করা হয়েছে। একই সাথে, বেলজিয়াম এবং লাক্সেমবার্গের শিল্পগুলির জন্য ভারতে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় পরিবেশের উপর জোর দিয়ে বিনিয়োগ উৎসাহী নীতিগুলির বিষয়ে তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-তে সহযোগিতার বিষয়েও উভয় দেশ সম্মতি জানিয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং ফিনটেকের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে লাক্সেমবার্গ ভারতের দ্রুত প্রসারিত ডিজিটাল বাজারে যুক্ত হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রদর্শন করছে। এই অধিবেশন কেবল অর্থনৈতিক সংখ্যাগুলির ক্ষেত্রেই নয়, বরং মানবিক এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় শক্তিশালী করার প্রেক্ষাপটেও ইতিবাচক ছিল। উভয় দেশ শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য পর্যবেক্ষণ মেকানিজম গঠনের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে।
শেষে, যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন পরবর্তী ধাপের বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে এই অধিবেশনে নির্ধারিত কৌশলগুলির নজরদারি এবং বাস্তবায়ন করা হবে। এই ১৯তম অধিবেশন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেলজিয়াম-লাক্সেমবার্গ অর্থনৈতিক ইউনিয়নের অর্থনৈতিক বিভাগগুলির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনরায় প্রতিফলিত করে, যা আগামী বছরগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।