কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং বিজ্ঞানকে সকলের জন্য আরও সহজলভ্য করতে নাগরিক-কেন্দ্রিক ও বহুভাষিক DTC ও MOST ওয়েবসাইট চালু করেছেন
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডা. জিতেন্দ্র সিং সাধারণ জনগণের জন্য বিজ্ঞানকে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে নাগরিক-কেন্দ্রিক এবং বহুভাষিক ওয়েবসাইটগুলির উদ্বোধন করেছেন। এই উদ্যোগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (ডিএসটি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (এমওএসটি) নতুন ডিজিটাল কৌশলের অংশ।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬-এ দেশের বিজ্ঞান ও শিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এল, যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডা. জিতেন্দ্র সিং সাধারণ নাগরিকদের কাছে বিজ্ঞানের তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করেন। এই উপলক্ষে তাঁর প্রধান বার্তা ছিল, “বিজ্ঞান শুধুমাত্র ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়, বরং এটি প্রতিটি সাধারণ মানুষের জীবনের অংশ হওয়া উচিত।” এই উদ্দেশ্যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (Department of Science and Technology - DST) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (Ministry of Education - MoST) সহযোগিতায় দুটি নতুন, বহুভাষিক এবং নাগরিক-কেন্দ্রিক ওয়েবসাইট অনলাইন করা হয়েছে।
মন্ত্রী ডা. জিতেন্দ্র সিং তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করেছেন যে ভারত একটি বহুভাষিক রাষ্ট্র, তাই বিজ্ঞানের জটিল তথ্য শুধুমাত্র ইংরেজি বা প্রযুক্তিগত ভাষায় রাখা অন্তর্ভুক্তিমূলক (inclusive) সমাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি বাধা। নতুন ওয়েবসাইটগুলোর ডিজাইন এই তথ্যকে মাথায় রেখে করা হয়েছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা তাদের মাতৃভাষা বা স্থানীয় ভাষায় বিজ্ঞান সংক্রান্ত নিবন্ধ, ভিডিও এবং ইন্টারঅ্যাক্টিভ মডিউল দেখতে পারবেন। এই উদ্যোগটি বিশেষভাবে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সাধারণ জনগণের জন্য একটি বড় স্বস্তি, যারা প্রায়ই জটিল বৈজ্ঞানিক শব্দাবলী এবং ভাষাগত ব্যবধানের কারণে বিজ্ঞান থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়ে থাকেন।
DST এবং MoST-এর এই ওয়েবসাইটগুলি কেবল তথ্য প্রদানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এগুলো দ্বিমুখী যোগাযোগের মাধ্যমও। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের জিজ্ঞাসা প্রকাশ করতে পারবেন, বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে বৈজ্ঞানিক দিকগুলি নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন যে এই ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারের উদ্দেশ্য হলো বিজ্ঞানের অধ্যয়ন এবং প্রয়োগ এমন একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত করা যা নাগরিক-কেন্দ্রিক হবে। এর ফলে শুধুমাত্র সাক্ষরতার মাত্রা বাড়বে না, বরং বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা (scientific temper) সাধারণ জনজীবনে গভীরভাবে প্রবেশ করবে।
২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যখন ডিজিটাল ইন্ডিয়া নীতিগুলো আরও দ্রুত গতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ডা. জিতেন্দ্র সিং আশা প্রকাশ করেছেন যে সময়ের সাথে এই ওয়েবসাইটগুলি একটি সমৃদ্ধ জ্ঞানভাণ্ডার (knowledge repository) হিসেবে বিকশিত হবে, যেখানে গোপালী, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য এবং কৃষি প্রযুক্তি জাতীয় বিষয়গুলির তথ্য সরল ভাষায় পাওয়া যাবে। তিনি সকল নাগরিককে এই নতুন ওয়েবসাইটগুলোর ব্যবহার করতে এবং তাদের প্রতিক্রিয়া দিতে পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে প্ল্যাটফর্মটি আরও উন্নত করা যায়।
এই ঐতিহাসিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশজুড়ে শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞান প্রচারক (Science Communicators) এবং প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরাও অংশ নেন। সবাই এই নাগরিক-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন যে এই পদক্ষেপটি বিজ্ঞানকে গণতান্ত্রিক করার দিকে একটি বিপ্লবী পদক্ষেপ। এখন আগামীর পথটি এর ওপর নির্ভর করবে যে কতটা কার্যকরভাবে স্থানীয় ভাষায় বিষয়বস্তু উপস্থাপন করা হয় এবং সাধারণ জনগণ এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনে কতটা পর্যন্ত গ্রহণ করে।