প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টার কার্যালয় এবং 'উদ্যোগ ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রবর্ধন বিভাগ' জাতীয় গবেষণা অবকাঠামোতে প্রবেশাধিকার শক্তিশালী করার জন্য 'স্টার্টআপ ইন্ডিয়া' এবং 'আই-স্টেম' পোর্টালের মধ্যে এপিআই সমন্বয়ের উদ্বোধন করেছে
প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা অফিস (PSA) এবং শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগ (DPIIT) 'স্টার্টআপ ইন্ডিয়া' ও 'I-STEM' পোর্টালের মধ্যে API ইন্টিগ্রেশন শুরু করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য জাতীয় গবেষণা অবকাঠামোতে প্রবেশাধিকার শক্তিশালী করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর সহজতর করা।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের শুরু হয়ে গেছে। প্রধান বিজ্ঞান উপদেষ্টা দপ্তর (পিএসএ) এবং শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগ (ডিপিআইআইটি) যৌথভাবে জাতীয় গবেষণা অবকাঠামোতে প্রবেশাধিকারকে আরও শক্তিশালী করার জন্য একটি নতুন প্রযুক্তিগত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। এই উদ্যোগের আওতায়, দেশের প্রধান স্টার্টআপ পোর্টাল 'স্টার্টআপ ইন্ডিয়া' এবং জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পোর্টাল 'আই-স্টেম'-এর মধ্যে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) সমন্বয়ের (ইন্টিগ্রেশন) শুরু করা হয়েছে।
এই নতুন সমন্বয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো স্টার্টআপ, উদ্যোক্তা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দূরত্ব কমানো। এখন, স্টার্টআপরা কোনো জটিল প্রক্রিয়া ছাড়াই 'আই-স্টেম' পোর্টালে উপলব্ধ সর্বশেষ গবেষণার ফলাফল, পেটেন্ট, প্রযুক্তি এবং বিশেষজ্ঞ জ্ঞানে সরাসরি প্রবেশাধিকার পাবে। এর ফলে প্রযুক্তি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত এবং সহজ হয়ে যাবে, যা নতুন ধারণাকে বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তর করতে সময় এবং খরচ কমাবে।
প্রধান বিজ্ঞান উপদেষ্টা দপ্তরের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের 'নমস্কার স্টার্টআপ' মিশনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার লক্ষ্য দেশটিকে একটি বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি শক্তিতে রূপান্তর করা। 'আই-স্টেম' পোর্টালে দেশের প্রধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির, যেমন আইআইটি, এনআইটি এবং অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির দ্বারা পরিচালিত গবেষণার ফলাফল উপলব্ধ রয়েছে। গত কয়েক বছরে, এই প্রতিষ্ঠানগুলির দ্বারা পরিচালিত গবেষণাকে বাজারে প্রয়োগ করার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে, কারণ স্টার্টআপগুলির কাছে এই প্রযুক্তিগুলিতে প্রবেশাধিকারের সীমিত মাধ্যম ছিল। নতুন এপিআই সমন্বয়ের মাধ্যমে এই বাধা দূর করা হয়েছে।
শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগের (ডিপিআইআইটি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এই সমন্বয় ডিজিটাল ইন্ডিয়ার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে স্টার্টআপগুলি তাদের পণ্য উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় বিজ্ঞানভিত্তিক ঘাটতি পূরণে সাহায্য পাবে। একই সাথে, গবেষকদের জন্যও এটি একটি নতুন পথ, কারণ তারা তাদের গবেষণাকে সরাসরি শিল্প জগতে পৌঁছে দিতে পারবেন এবং এর ব্যবহারিক উপযোগিতা যাচাই করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মনে হয় যে এই উদ্যোগ ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপগুলির, যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বায়োটেক এবং উন্নত উপকরণ খাতে কাজ করা উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি। এখন তারা 'স্টার্টআপ ইন্ডিয়া'-র মাধ্যমেই তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএন্ডি) প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারবেন, যার ফলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের উৎস তৈরির আশা করা হচ্ছে।
সরকারের এই যৌথ প্রচেষ্টা দেখাচ্ছে যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তাশীলতার মধ্যে একটি শক্তিশালী সহযোগিতার নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে, এই সমন্বয়কে আরও বিকশিত করে অন্যান্য ডিজিটাল সেবাগুলির সাথেও যুক্ত করা যেতে পারে, যার ফলে ভারতের স্টার্টআপগুলি বিশ্বস্তরে প্রতিযোগিতায় সক্ষম হবে। এইভাবে, 'স্টার্টআপ ইন্ডিয়া' এবং 'আই-স্টেম'-এর মধ্যে এই প্রযুক্তিগত সেতু দেশের স্মার্ট গভর্ন্যান্স এবং ডিজিটাল উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গির একটি প্রতীক।