দূরসংযোগ বিভাগ এসটিসি ২০২৬-এ ইন্টেলিজেন্ট নেটওয়ার্কস অ্যান্ড কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন বিষয়ক অধিবেশনের নেতৃত্ব দিচ্ছে
দূরসংযোগ বিভাগ এসটিআইসি ২০২৬-এ ইন্টেলিজেন্ট নেটওয়ার্ক এবং কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন বিষয়ে বিশেষ অধিবেশন আয়োজন করেছিল, যেখানে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে, ভারতের দূরসংযোগ বিভাগ প্রধান প্রযুক্তিগত সম্মেলন 'ইস্টিক ২০২৬' (ESTIC 2026)-এর সময় 'ইন্টেলিজেন্ট নেটওয়ার্কস অ্যান্ড কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন' (Intelligent Networks and Quantum Communication) বিষয়ে একটি বিশেষ ও বিষয়বস্তুভিত্তিক অধিবেশনের নেতৃত্ব দিয়েছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল পরবর্তী প্রজন্মের তারাহীন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা এবং কোয়ান্টাম-সংশোধিত যোগাযোগ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাগুলির ওপর আলো ফেলা।
অধিবেশনে দেশের প্রধান প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং শিল্প প্রতিনিধিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যারা আধুনিক দূরসংযোগ খাতের জটিলতা এবং সুযোগগুলির ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। দূরসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তারা এই উপলক্ষে স্পষ্ট করেছেন যে, ডিজিটাল ইন্ডিয়া নীতিগুলির আওতায়, ভারত এখন কেবল 5জি প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে না, বরং 6জি এবং কোয়ান্টাম ইন্টারনেটের প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছেন যে, ইন্টেলিজেন্ট নেটওয়ার্কস, যা প্রায়ই 'সেলফ-অপ্টিমাইজিং নেটওয়ার্কস' নামেও পরিচিত, নেটওয়ার্কের ক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং দক্ষতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্নত করতে সহায়ক প্রমাণিত হবে।
কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন বিভাগে, বিশেষজ্ঞরা কোয়ান্টাম কী-ডিস্ট্রিবিউশন (QKD) প্রযুক্তির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। এই প্রযুক্তির ব্যবহার করে, ডেটাকে হস্তক্ষেপ বা অননুমোদিত অ্যাক্সেস ছাড়া অত্যন্ত নিরাপদ উপায়ে স্থানান্তর করা সম্ভব। আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেহেতু কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের বিকাশ ঘটছে, বিদ্যমান এনক্রিপশন প্রোটোকলগুলি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে, তাই কোয়ান্টাম-প্রুফ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অধিবেশনের সময়, অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা এটিও জানিয়েছেন যে, ইন্টেলিজেন্ট নেটওয়ার্কস এবং কোয়ান্টাম কমিউনিকেশনের সমন্বিত ব্যবহার, হাসপাতাল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা খাত এবং সরকারি সেবায় বিপ্লবী পরিবর্তন আনতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোয়ান্টাম যোগাযোগের মাধ্যমে সংবেদনশীল কৌশলগত তথ্য নিরাপদে বিনিময় করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে ইন্টেলিজেন্ট নেটওয়ার্কস ট্রাফিক কনজেশনকে লাইভ ম্যানেজ করে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করবে।
দূরসংযোগ বিভাগ এই অধিবেশনের মাধ্যমে এমন একটি বার্তাও দিয়েছে যে, সরকার, বেসরকারি শিল্প এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা হবে। এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো (Infrastructure) নির্মাণ এবং মানদণ্ড (Standards) নির্ধারণের ওপর কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। শেষে, আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইস্টিক ২০২৬-এর এই অধিবেশন থেকে প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়া এবং পরামর্শ, ভারতকে বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত মানচিত্রে একটি প্রধান ভূমিকা পালনে সহায়ক হবে। এই ঘটনা দেশের ডিজিটাল ভবিষ্যতের প্রতি করা প্রতিশ্রুতির একটি প্রতীক, যেখানে নিরাপত্তা এবং নবাবিভাব (Innovation)-কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।