শ্রী রাজীব গাউবা ৫ম কাউটিল্য ইকোনমিক কনক্লিভে কম হস্তক্ষেপ এবং ঝুঁকি-নির্ভর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন
শ্রী রাজীব গাউবা ৫ম কাউটিল্য ইকোনমিক কনক্লিভে বলেছেন যে অর্থনৈতিক নীতিগুলো কম হস্তক্ষেপ এবং ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের সাথে গ্রহণ করা উচিত। তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ভারতের সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
5ম কৌটিল্য অর্থনৈতিক সম্মেলন, যা ৩ থেকে ৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানে প্রধান নীতি নির্ধারক ও অর্থনীতিবিদ শ্রী রাজীব গৌবা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সরকারকে কম হস্তক্ষেপমূলক নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং ঝুঁকির ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ সামঞ্জস্য করতে হবে।
সম্মেলনের সময়, গৌবা স্পষ্ট করেন যে বর্তমানে অনেক নীতিগত সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপের কারণে উদ্যোগ ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে উঠছে না। তিনি উদাহরণ হিসেবে দেখান কীভাবে ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (SME) তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে বাধার সম্মুখীন হয়। “যখন নিয়ন্ত্রণ খুব কঠোর হয়, তখন এটি উদ্ভাবন ও উন্নয়নকে বাধা দেয়,” তিনি বলেন।
গৌবা আরও জানান যে ঝুঁকি-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণে সরকারকে যেসব ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম, সেখানে আরও নমনীয়তা থাকবে, আর উচ্চ ঝুঁকির ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ‘স্মার্ট রেগুলেশন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এই মডেলের অধীনে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ ও অন্যান্য উদ্যোগের জন্য নিয়ন্ত্রক বোঝা কমানো যেতে পারে।
সম্মেলনের সময় অন্যান্য প্রধান বক্তারা এই বিষয়েও আলোচনা করেন। ড. রাধা চন্দ্র জানান যে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্যও ঝুঁকি-ভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত। এদিকে, শিল্প মন্ত্রী পবন সিংহ বলেন যে সরকার ইতিমধ্যে ‘মডুলার রেগুলেশন’ এর পরীক্ষা শুরু করেছে, যাতে ছোট উদ্যোগের জন্য নিয়মগুলো সহজ করা যায়।
গৌবা তার বক্তব্যকে আরও জোরদার করতে পরিসংখ্যানের সহায়তা নেন। তিনি জানান যে ২০২২-২৩ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের মতে, ছোট ব্যবসায়ে ১৮% হ্রাস পেয়েছে, যখন বড় উদ্যোগের উন্নয়ন ৬% ছিল। এই ফারাক কমাতে নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন প্রয়োজন।
সম্মেলনের সমাপনী সেশনে, অনেক অংশগ্রহণকারী গৌবার কথা মেনে নেন। বিশেষ করে, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের প্রধান উদ্যোক্তা, আমিত কুমার, বলেন যে ‘কম হস্তক্ষেপমূলক নীতি’ স্টার্টআপের জন্য “স্বাধীনতা” ও “উন্নয়ন” এর পথ খুলে দেবে।
এর মধ্যে, কিছু সমালোচক প্রশ্ন তোলেন যে ঝুঁকি-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণে কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গৌবা এই উদ্বেগের জবাবে বলেন যে ‘সমন্বিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ সহ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে হবে।
সম্মেলনের সময়, ভারত সরকার কর্তৃক প্রকাশিত নতুন ‘ইনোভেশন ও রেগুলেশন রিপোর্ট ২০২৬’ ও আলোচনায় আনা হয়। প্রতিবেদনের মতে, ভারতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে ‘নিয়ন্ত্রক সংস্কার’ প্রয়োজন।
শ্রী রাজীব গৌবা এই অনুষ্ঠানে আবারও জোর দেন যে নীতি নির্ধারকদের ‘স্মার্ট রেগুলেশন’ এর দিকে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি উপসংহার টানেন যে কম হস্তক্ষেপমূলক নীতি ও ঝুঁকি-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়ে ভারতের অর্থনীতিকে নতুন শক্তি দেওয়া হবে।
এইভাবে, ৫ম কৌটিল্য অর্থনৈতিক সম্মেলনে রাজীব গৌবার কথা নীতি নির্ধারক, উদ্যোক্তা ও গবেষকদের মধ্যে নতুন সংলাপ শুরু করে, যা ভারতের অর্থনৈতিক নীতির ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।