প্রধানমন্ত্রী আরএসএস প্রতিষ্ঠা দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন
প্রধানমন্ত্রী ২৮ অক্টোবর ২০২৬-এ জাতীয় স্বয়ংসেবক সমিতি (আরএসএস)-এর প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রধানদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি সমিতির দেশপ্রেম ও সামাজিক সেবার প্রতি নিবেদিত মনোভাবকে উচ্চ প্রশংসা করেছেন, যা সমাজে ঐক্য ও অখণ্ডতার অনুভূতিকে উত্সাহিত করেছে।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রতিষ্ঠার ১০৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে, প্রধানমন্ত্রী আজ, ২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, সংঘের সকল স্বয়ংসেবক ও নেতাদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। যদিও আরএসএস-এর আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা দিবস ২৮ অক্টোবর পালিত হয়, তবে এই ঐতিহাসিক সংগঠনের দর্শন ও কার্যপদ্ধতি বুঝে, এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ বার্তা প্রকাশ করেছেন। এই বার্তায় তিনি সংঘের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে করা অবদানের প্রশংসা করেছেন এবং এর অনন্য ভূমিকা সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর মতামতের মধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, আরএসএস ব্রিটিশ শাসনকালেই ভারতবাসীর মনে স্বাবিমান ও দেশভক্তির আগুন জ্বালাতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি বলেছেন যে, সংঘের মূল মন্ত্র 'অহিংসা ও অসহযোগ'-এর পাশাপাশি সমাজসেবায় নিবেদিত ছিল, যা ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন যে, সংঘ কোভিড-১৯ মহামারি, ভূমিকম্প, বন্যা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মানুষের সাহায্যের জন্য নিজেকে সজ্জিত করে রেখেছিল। এই সময়কালে লক্ষাধিক স্বয়ংসেবক প্রাণ-পরিচয়ে সমাজসেবার প্রকৃত নমুনা উপস্থাপন করেছেন, যা দেশের জন্য গর্বের বিষয়।
বার্তায়, প্রধানমন্ত্রী আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. কে.এন. কাট্যু এবং মহানায়ক ডা. হেডগেওয়ারের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি বলেছেন যে, ডা. কাট্যুর দূরদর্শিতা এবং ডা. হেডগেওয়ারের অতুলনীয় নেতৃত্ব ক্ষমতা এই সংগঠনকে একটি মজবুত ভিত প্রদান করেছে। আজও আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং এর কার্যক্রম দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য একটি মজবুত স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন যে, আরএসএস কেবল একটি রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠন নয়, বরং এটি ভারতীয় জনগণের আত্মার প্রকাশ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সকল ধর্ম, জাতি ও শ্রেণির মানুষকে একসাথে নিয়ে সমতা ও সহযোগিতার অনুভূতিকে উৎসাহিত করে। এই বছর, ২০২৬ সালে, যখন দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির নতুন লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আরএসএস-এর স্বয়ংসেবকদের তপস্যা ও পরিশ্রম এই যাত্রায় একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।
জাতীয় পর্যায়ে এই দিবস পালন করতে, দেশের বিভিন্ন শহরে বিধিবদ্ধ পূজা-আরচনা, বন্দনা এবং সংগঠনের ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে জল অর্পণ করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়েও মানুষ এই দিনে নিবেদিত স্বয়ংসেবকদের প্রতি তাঁদের সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ ও বার্তা আরএসএস-এর ১০৬তম প্রতিষ্ঠা দিবসকে আরও বিশেষ করে তুলেছে, যা দেশজুড়ে একতা ও দেশভক্তির অনুভূতিতে নতুন উচ্চতা এনে দিয়েছে। এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ভারতের অগ্রগতির পথে আরএসএস-এর অবদান অমূল্য ও অপরিবর্তনীয়।