মনের কথা-র ১৩৯তম কিস্তিতে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মূল পাঠ (২৫.১০.২০২৬)
২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী 'মন কী কথা' প্রোগ্রামের ১৩৯তম পর্বে রাষ্ট্রপতিকে সম্বোধন করেন, যেখানে দেশের উন্নয়ন, সামাজিক অভিযান এবং নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী 'মনের কথা' অনুষ্ঠানের ১৩৯তম পর্বের মূল পাঠ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন, যা আকাশবাণী ও দূরদর্শনের মাধ্যমে সম্প্রচারিত হবে। এই অনুষ্ঠানটি, যা এখন দেশের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে থাকা মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অগ্রগতি নিয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেছেন। এই সম্বোধনে তিনি বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মকে তাঁদের স্বপ্ন ছোট না মনে করে, বরং রাষ্ট্রনির্মাণের মহাসংকল্পের সাথে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর মূল পাঠে 'মনের কথা'-র আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানের অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, গত কয়েক মাসে দেশজুড়ে স্বনির্ভরতার সংকল্পকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন উদ্যোগ শুরু করা হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে তিনি প্রশংসনীয় বলে মনে করেছেন। তিনি বলেছেন যে, যতক্ষণ না দেশের প্রতিটি গ্রামে আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছায়, ততক্ষণ কাজ অসম্পূর্ণ।
সম্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং ঐক্যের ওপরও আলো পড়িয়েছেন। ২৫ অক্টোবরের এই রবিবারের পর্বে তিনি এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন যে, বৈচিত্র্যে ঐক্যই ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেছেন যে, দেশের দূরবর্তী এলাকায়ও মানুষ একে অপরের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে, যা ভারতীয় মানসিকতার সবচেয়ে সুন্দর পরিচয়। এই পাঠে তিনি দেশের বয়স্ক নাগরিক এবং নারী শক্তিকেও সম্মাননা জানিয়েছেন, যারা এখন প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের জায়গা তৈরি করছেন।
এই মূল পাঠে প্রধানমন্ত্রী আগামী দিনের লক্ষ্যগুলোর ওপরও আলোচনা করেছেন। তিনি শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগগুলোর ওপর জোর দিয়ে বলেছেন যে, সরকার যতটা সম্ভব চেষ্টা করছে যাতে তরুণদের তাদের দক্ষতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসংস্থান পাওয়া যায়। তিনি নাগরিকদের আবেদন জানিয়েছেন যে, তারা তাদের চারপাশের সমস্যাগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দিন এবং সমাধানের জন্য সহযোগিতা করুন।
'মনের কথা'-র এই ১৩৯তম পর্বের মূল পাঠ দেশজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়েছে, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ এটি মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। এই সম্বোধনটি নাগরিকদের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি নতুন শক্তি এবং বিশ্বাসের ঢেউ তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর শব্দগুলো স্পষ্ট করেছে যে, উন্নয়নের এই যাত্রায় প্রতিটি নাগরিকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং যতক্ষণ না সমাজের প্রতিটি শ্রেণি সমান সুযোগ পায়, ততক্ষণ অগ্রগতি অসম্পূর্ণ থাকবে। এই পাঠ কেবল একটি রাজনৈতিক সম্বোধন ছিল না, বরং এটি দেশবাসীর হৃদয়ের সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়ার একটি চেষ্টা ছিল, যা একবার আবার প্রমাণ করেছে যে 'মনের কথা' কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং রাষ্ট্রের সংলাপের একটি জীবন্ত মাধ্যম।