আইএনএ-এ অবস্থিত দিল্লি হাটে 'খাদী মহোৎসব-২০২৬' এর অধীনে কেভিআইসি-এর সভাপতি শ্রী মনোজ গোয়াল একটি বিশেষ খাদী ও গ্রামোদ্যোগ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন
দিল্লির আইএনএ-এ অবস্থিত দিল্লি হাটে আয়োজিত 'খাদী মহোৎসব-২০২৬' চলাকালে কেভিআইসি সভাপতি শ্রী মনোজ গোয়াল খাদী ও গ্রামোয়োগ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন, যার উদ্দেশ্য গ্রামীণ কারিগর ও খাদী শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬-এ দিল্লির বিখ্যাত বাজার আইএনএ-তে অবস্থিত দিল্লি হাটে একটি বিশেষ ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে হয়েছে। 'খাদি মহোৎসব-২০২৬'-এর আওতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে, কেভিআইসি-র সভাপতি শ্রী মানোজ গোয়েল খাদি ও গ্রামোদ্যোগ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের গ্রামীণ অঞ্চলে বিকশিত হওয়া কারিগরি দক্ষতা এবং খাদি উৎপাদনকে একটি বিস্তৃত প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপন করা, যাতে ভোক্তা এবং শিল্প জগত এটি নিয়ে মুক্তভাবে আলোচনা করতে পারেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্রী মানোজ গোয়েল তাঁর ভাষণে খাদির আধুনিক রূপ এবং গ্রামোদ্যোগের অর্থনৈতিক শক্তির ওপর আলো পড়ান। তিনি জানান যে, 'খাদি মহোৎসব-২০২৬' কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। শ্রী গোয়েল গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন যে, দেশের প্রতিটি কোণে অবস্থিত কারিগরদের হাত থেকে নির্মিত পণ্যগুলো আজকের বিশ্ববাজারেও প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা রাখে। তিনি খাদিকে ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রের চেয়েও এগিয়ে নিয়ে আধুনিক এবং স্টাইলিশ ফ্যাশন বিকল্প হিসেবে উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
প্রদর্শনীতে দিল্লি হাটের বিভিন্ন স্টলে শত শত ধরনের খাদি পণ্য, হস্তশিল্প সামগ্রী এবং গ্রামোদ্যোগের সাথে সম্পর্কিত নানা বস্তু প্রদর্শিত হয়। এখানে উপলব্ধ পণ্যগুলোর মধ্যে সুতি কাপড়, বোনা ব্যাগ এবং মৌলিক ভারতীয় শিল্পকলার নমুনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। উপস্থিত জনসমষ্টি এই পণ্যগুলো দেখে প্রশংসা জানায় এবং অনেকেই কেনাকাটাও করেন। এই প্রদর্শনী খাদি উৎপাদক এবং ভোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় কারিগর, উদ্যোক্তা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। খাদি ও গ্রামোদ্যোগ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুসারে, এই ধরনের আয়োজন থেকে কর্মসংস্থানের সুযোগে বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ উন্নয়নে উৎসাহিত হওয়ার আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। দিল্লি হাট, যা দিল্লির সবচেয়ে ব্যস্ত এবং বিখ্যাত বাজারগুলোর একটি, এই আয়োজনের জন্য একটি উপযুক্ত স্থান হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, কারণ এখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের আগমন হয়।
শ্রী মানোজ গোয়েল সমাপনীতে সকল কারিগরকে উৎসাহিত করে বলেন যে, তাঁদের পরিশ্রম এবং দক্ষতাই দেশের পরিচয়। তিনি আরও বলেন যে, 'খাদি মহোৎসব-২০২৬'-র মাধ্যমে খাদিকে জাতীয় স্তরে আরও জনপ্রিয় করা হবে। এই আয়োজন খাদির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দেশবাসীর বিশ্বাস এবং সমর্থনকে তুলে ধরে। এই প্রদর্শনীর সফলতা থেকে ভবিষ্যতে অন্যান্য শহরেও এমনই অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুপ্রেরণা পাওয়া যাবে, যা খাদি শিল্পকে আরও গতিশীল করবে।