আইট্রা, জামনগর উদযাপন করল ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠা দিবস ‘আইট্রা দিবস’; আয়ুর্বেদিক শিক্ষা, গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য খাতে প্রতিষ্ঠানের অর্জনগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে
জামনগরের আইট্রা এই বছর তার ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করেছে, যেখানে আয়ুর্বেদিক শিক্ষা, গবেষণা এবং জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অর্জনগুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিরা প্রতিষ্ঠানের অবদানের প্রশংসা করে ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
Journalism India··0 ভিউ·3 মিনিট পড়ুন
জামনগর – ITRA, অর্থাৎ আয়ুর্বেদিক শিক্ষা, গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, আজ তার ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করেছে। এই অনুষ্ঠানটি ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জামনগরের প্রধান ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয়, যেখানে আয়ুর্বেদ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অর্জন এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রতিষ্ঠা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, ITRA-এর পরিচালক, প্রফেসর ডক্টর অনিল কুমার অতিথিদের স্বাগত জানান এবং প্রতিষ্ঠানের মিশন, ভিশন ও কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেন। তিনি জানান যে, ITRA গত ছয় বছরে আয়ুর্বেদিক শিক্ষা ক্ষেত্রে উচ্চমানের পাঠ্যক্রম, গবেষণা প্রকল্প এবং স্বাস্থ্যকর্মসূচি তৈরি করেছে।
এই বছরের অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে তিনটি প্রধান বিষয়ে আলোচনা হয়:
১. শিক্ষামূলক উদ্যোগ – ITRA আয়ুর্বেদের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির সাথে যুক্ত করে অনলাইন এবং অফলাইন উভয় রূপে পাঠ্যক্রম প্রদান করেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে, ITRA ১,২০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করেছে। এর অতিরিক্ত, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিপ্লোমা কর্মসূচিও পরিচালনা করা হচ্ছে।
২. গবেষণা ও উন্নয়ন – ITRA-এর গবেষণা বিভাগ আয়ুর্বেদিক ওষুধের রাসায়নিক বিশ্লেষণ, ঔষধি গুণের পরীক্ষা এবং রোগের চিকিৎসায় তাদের কার্যকারিতা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালে, প্রতিষ্ঠানটি ‘আয়ুর্বেদিক ঔষধি গাছপালা ও বীজের সমগ্র বিশ্লেষণ’ বিষয়ে জাতীয় বিজ্ঞান বোর্ড (NSF) থেকে ৫০ লক্ষ রুপি অনুদান পেয়েছে।
৩. জনস্বাস্থ্য ও কমিউনিটি সেবা – ITRA জামনগর এবং আশেপাশের গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্য শিবির, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। ২০২৬ সালে, ৩,৫০০-এরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে, ITRA ‘স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অভিযান’-এর আওতায় ১০,০০০-এরও বেশি পরিবারকে পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা দিয়েছে।
উপস্থিত প্রধান অতিথিদের মধ্যে জামনগরের মেয়র, শ্রী রাজেশ চন্দ্র, এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ডক্টর কুসুম রানী ছিলেন। মেয়র ITRA-এর কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান আমাদের সমাজের স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা উভয়কে সমৃদ্ধ করছে। আমরা ভবিষ্যতে ITRA-এর সাথে আরও সহযোগিতার আশা করি।”
ডক্টর কুসুম রানী আয়ুর্বেদিক শিক্ষার গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বলেন, “আয়ুর্বেদের প্রাচীন ঐতিহ্যকে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে যুক্ত করে আমরা একটি স্বাস্থ্যকর সমাজের ভিত স্থাপন করতে পারি। ITRA এই দিকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।”
উৎসবের সময়, ITRA-এর শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকমণ্ডলী ‘আয়ুর্বেদিক ঔষধি গাছপালা ও বীজের ব্যবহার’ বিষয়ে একটি কর্মশালা আয়োজন করে। এই কর্মশালায় স্থানীয় কৃষকদের ঔষধি গাছপালা ও বীজের চাষ, কাটি এবং প্রক্রিয়াকরণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো হয়, যাতে তারা আয়ুর্বেদিক শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন।
শেষে, ITRA-এর পরিচালক আগামী পরিকল্পনাগুলোর ঘোষণা দেন। তিনি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার জন্য নতুন গবেষণা ল্যাবরেটরির নির্মাণ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পাঠ্যক্রমের সম্প্রসারণ, এবং গ্রামীণ এলাকায় মোবাইল স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোকপাত করে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো আয়ুর্বেদিক জ্ঞানকে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাকে উৎসাহিত করা।”
এইভাবে, ITRA-এর ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠা দিবসে আয়ুর্বেদ শিক্ষা, গবেষণা এবং জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অর্জনগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে, এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনাগুলোর সাথে একটি নতুন শুরু ঘোষণা করা হয়েছে।