১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দশহরার উপলক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ধর্ম, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সৌহারদের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে এই উৎসব আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধি এবং ইতিবাচক শক্তির প্রতীক, যা রাষ্ট্রের একতাবদ্ধতাকে আরও মজবুত করে।
Journalism India··5 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
দিল্লি, ১৯ অক্টোবর ২০২৬। আজ, রবিবার, যখন পুরো দেশ দশহরার উৎসবের আনন্দ উপভোগ করছে, তখন ভারতের রাষ্ট্রপতি এই পবিত্র উপলক্ষে সকল নাগরিককে তাঁর গভীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই বিশেষ বার্তায় বলা হয়েছে যে, দশহরা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি ভারতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধির একটি অমূল্য মুকুট। এই দিনে পুরো জাতি একই সূর্যের নিচে এসে নিজের সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রদর্শন করে।
রাষ্ট্রপতি মহোদয়া তাঁর বার্তায় কিংবদন্তির কেন্দ্রে অবস্থিত রাম-রাবণের যুদ্ধের প্রতীকী অর্থের ওপর আলো পড়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, এই উৎসব ‘ভালো’ ও ‘মন্দ’, ‘ধর্ম’ ও ‘অধর্ম’, ‘সত্য’ ও ‘মিথ্যা’-এর মধ্যে চিরন্তন লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। ২০২৬ সালে, এই বার্তার বিশেষ প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে, কারণ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শুধুমাত্র আধুনিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রয়োজন নেই, বরং আধ্যাত্মিক শক্তি ও নৈতিক মূল্যবোধেরও প্রয়োজন। তিনি সকল নাগরিককে অনুরোধ করেছেন যে, তারা এই দিনটিকে মন ও আত্মা পবিত্র করার, কৃতজ্ঞতা ও সেবামূলক মনোভাব গ্রহণের একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করুক।
দেশের বিভিন্ন অংশে দশহরার বিভিন্ন রূপে উদযাপন এই উৎসবের সমৃদ্ধি প্রতিফলিত করে। উত্তর ভারতে রঘুনগর ও অযোধ্যার মতো শহরগুলোতে মহিমান্বিত রথযাত্রা এবং সাদা পতাকা দিয়ে সজ্জিত রাস্তাগুলো যেন নতুন রূপ ধারণ করেছে। অন্যদিকে, পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে মহিমান্বিত নটবংশী মন্ডপ এবং কলশ পূজার সাথে এই উৎসব উদযাপিত হচ্ছে। প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব অনন্য ঐতিহ্য রয়েছে, будь то গুজরাতের নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বিশেষত্ব বা পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজা ও দশহরার অনন্য মিলন।
এই উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি বিশেষভাবে সমাজের দুর্বল শ্রেণি ও তরুণ প্রজন্মকে সম্বোধন করেছেন। তাঁর মতে, এই উৎসবের মূল ভাবনা হলো ‘সহ-অস্তিত্ব’ (co-existence)। যতক্ষণ আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের প্রতি, যারা যেকোনো ধর্ম বা জাতির হোক, সম্মান ও ভালোবাসার ভাব ধরে রাখব, ততক্ষণ আমাদের জাতি শক্তিশালী থাকবে। তিনি বলেছেন যে, দশহরার পরিবেশ আমাদের শেখায় যে, ব্যর্থতার পরেও উঠে দাঁড়ানো এবং সঠিক পথে হাঁটাই সফলতার চাবিকাঠি।
বার্তার সমাপ্তিতে, রাষ্ট্রপতি মহোদয়া পুরো জাতির নামে তাঁর শুভেচ্ছা পুনরায় জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই বছরের দশহরার আগুন দেশের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন দূর করবে এবং সদ্ভাবের আলো প্রতিটি ঘরে জ্বলে উঠবে। তিনি সকলকে অনুরোধ করেছেন যে, তারা এই উৎসবটিকে পরিবার, বন্ধু ও সম্প্রদায়ের সাথে মিলে মিশে উদযাপন করুক, যাতে ভারতীয় একতা আরও গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। আজ, ১৯ অক্টোবর ২০২৬-এ, ভারতের রাষ্ট্রপতির এই শুভেচ্ছা দেশের প্রতিটি কোণে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, যা একতা ও অগ্রগতির বার্তাকে আরও শক্তিশালী করছে।