ইন্ডিয়াএআই মিশন ‘ইন্ডিয়াএআই ইনোভেশন সেন্টার’ পিলারের আওতায় দেশীয় ফাউন্ডেশন মডেল—সকেটের ইকেএ-1 এবং জেন্টিকিউর ধীর 2বি ও ধীর 5বি—উন্মোচন করেছে
ইন্ডিয়াএআই মিশনের 'ইন্ডিয়াএআই ইনোভেশন সেন্টার' পিলারের আওতায় দেশীয় ফাউন্ডেশন মডেল সকেটের ইকেএ-1 এবং জেন্টিকিউর দীর 2বি ও দীর 5বি ঘোষণা করা হয়েছে, যা ভারতের এআই ইকোসিস্টেমে নতুন মাইলফলক স্থাপনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬-এ, ভারতীয় প্রযুক্তিগত পরিদৃশ্যে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে, যখন ইন্ডিয়াএআই মিশন তার প্রধান স্তম্ভ 'ইন্ডিয়াএআই ইনোভেশন সেন্টার'-এর আওতায় কৌশলগত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই মাইলফলক হিসেবে, তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশীয়ভাবে উন্নীত ফাউন্ডেশন মডেল প্রকাশ করা হয়েছে। এই মডেলগুলি শুধুমাত্র ভারতের স্বাধীনতার সংকল্পকে প্রতিফলিত করে না, বরং দেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
প্রথম প্রধান ঘোষণায় সকেট দ্বারা উন্নীত ইকেএ-১ মডেল অন্তর্ভুক্ত। ইকেএ-১-কে বিশেষভাবে উচ্চ-পারফরম্যান্সের এআই কাজ সামলানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা জটিল ডেটা প্রসেসিং এবং রিয়েল-টাইম গণনায় দক্ষতা প্রদর্শন করে। এই মডেলের উদ্দেশ্য হলো ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য এআই প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা, যেখানে ডেটা গোপনীয়তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, জেন্টিকু দ্বারা উন্নীত আরও দুটি ফাউন্ডেশন মডেল, ধীর ২বি এবং ধীর ৫বি-এর বিস্তারিত উপস্থাপনাও করা হয়েছে। ধীর ২বি মডেলটি হালকা এবং দ্রুত সাড়া দেওয়া এআই অ্যাপ্লিকেশনের জন্য উন্নীত করা হয়েছে, যা সীমিত রিসোর্সযুক্ত ডিভাইসেও দক্ষতার সাথে চলে। এর বিপরীতে, ধীর ৫বি মডেলটি বেশি জটিল এবং গভীর বিশ্লেষণাত্মক কাজের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং গবেষণা বিভাগগুলির জন্য একটি শক্তিশালী সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করবে। এই মডেলগুলির প্রকাশ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে ভারত এখন এআই খাতে শুধুমাত্র একটি ভোক্তা নয়, বরং একটি প্রধান নির্মাতা এবং উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে উঠছে।
ইন্ডিয়াএআই মিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এই উদ্যোগটি 'ইন্ডিয়াএআই ইনোভেশন সেন্টার' স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো ভারতে এআই গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএন্ডি) উৎসাহিত করা এবং একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এআই ইকোসিস্টেম গঠন করা। এই দেশীয় ফাউন্ডেশন মডেলগুলির মাধ্যমে, দেশ এখন বিদেশি এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানোর দিকে একটি দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকেটের ইকেএ-১ এবং জেন্টিকুর ধীর ২বি ও ধীর ৫বি মডেল ভারতীয় শিল্প, শিক্ষা এবং সরকারি বিভাগগুলির জন্য একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।
এই ঘোষণার সাথে সাথে, ভারতীয় স্টার্টআপ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে। সরকার এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে এই সহযোগিতাকে এআই খাতে ভারতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজের স্থান সুদৃঢ় করার একটি কৌশলগত প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে, এই মডেলগুলি সাধারণ মানুষের জন্য উপলব্ধতা এবং তাদের ইন্টিগ্রেশনের বিষয়ে বিস্তারিত সময়সীমা ঘোষণা করা হবে, যা ভারতীয় ডিজিটাল ভবিষ্যতকে আরও নিরাপদ এবং স্বাধীন করবে।