সর্বানন্দ সোনোয়াল ২০৪৭ সালের মধ্যে তীরবর্তী ও জলপথে মাল পরিবহনের (ফ্রেট) অংশীদারিত্ব দ্বিগুণ করে ১২% করার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সংসদে প্রস্তাব পেশ করেছেন যে, ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের মোট পণ্য পরিবহনে উপকূলীয় ও জলপথের অংশ বর্তমান স্তর থেকে দ্বিগুণ করে ১২ শতাংশে উন্নীত করা হবে, যাতে যানবাহনের চাপ কমে পরিবেশ রক্ষা করা যায়।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
নতুন দিল্লি। দেশের পরিবহন অবকাঠামোতে এক বিপ্লবী পরিবর্তনের দিকে কেন্দ্রীয় সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সম্প্রতি সংসদে তাঁর প্রস্তাবের মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন যে, ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে তার উপকূলীয় ও জলপথের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের (ফ্রেট) অংশ বর্তমান স্তর থেকে দ্বিগুণ করে মোট পণ্য পরিবহনে ১২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই উদ্যোগটি দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ানোর এবং সড়ক ও রেলপথের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
সোনোয়াল দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, বর্তমানে ভারতের মোট পণ্য পরিবহনের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ সড়ক ও রেলপথের মাধ্যমে হয়, অন্যদিকে জলপথ ও উপকূলীয় পরিবহনের অবদান এর তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। সরকারের মনে হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে, দূষণ কমানোর এবং শক্তি-দক্ষ পরিবহন মাধ্যম যেমন জাহাজ ও নৌকার ভূমিকা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। ১২ শতাংশ লক্ষ্য অর্জন করলে শুধুমাত্র সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা কমে আসবে, বরং জাতীয় মহাসড়কের মেরামতে খরচ হওয়া বিশাল বাজেটেরও সাশ্রয় হবে।
পরিকল্পনার আওতায়, সরকার উপকূলীয় রুট (Coastal Routes) এবং গঙ্গা জলপথ (National Waterways) এর অবকাঠামোকে আরও দক্ষ ও আধুনিক করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এই দিকে বন্দর, গুদাম এবং সংযোগসম্পর্ক উন্নত করার জন্য বিশেষ বাজেটary ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে উৎপাদনকারী এলাকা থেকে ভোক্তা এলাকা পর্যন্ত পণ্য সরবরাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে হতে পারে। সোনোয়াল উল্লেখ করেছেন যে, ছোট ও মাঝারি আকারের জাহাজের ব্যবহার বাড়ালে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যকেও শক্তি দেওয়া হবে, যার ফলে কৃষি উৎপাদ ও শিল্পোৎপাদ রপ্তানিতে উন্নতি আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মনে হয়, ২০৪৭ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকেও একত্রিত করার প্রয়োজন হবে। সরকারের দ্বারা উপস্থাপিত এই নীতি-নথি ভারতের 'উন্নত ভারত'-এর আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দিকে একটি পবিত্র পদক্ষেপ। উপকূলীয় ও জলপথের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন বাড়িয়ে, দেশ শুধুমাত্র তার পরিবহন খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, বরং বিশ্ব মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক মডেলও গড়ে তুলতে পারবে। এই কৌশলটি আগামী দুই দশকে ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্পের সম্প্রসারণে একটি মাইলফলক হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।