নতুন দিল্লিতে সেন্টার ফর জয়েন্ট ওয়ারফেয়ার স্টাডিজ ও আইডিএস প্রধান কার্যালয় কর্তৃক সাইবার-সক্ষম জ্ঞানগত যুদ্ধ নিয়ে আয়োজিত সেমিনার সমাপ্ত
নতুন দিল্লিতে সেন্টার ফর জয়েন্ট ওয়ারফেয়ার স্টাডিজ এবং আইডিইউএক্সের যৌথ তত্ত্বাবধানে সাইবার-ক্ষম জ্ঞানীয় যুদ্ধ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
নতুন দিল্লি, ৪ নভেম্বর, ২০২৬: বর্তমান জটিল বিংশ শতাব্দীর প্রতিরক্ষা পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে ভৌত যুদ্ধের সীমানা ধূসর হয়ে আসছে, সেন্টার ফর জয়েন্ট ওয়ারফেয়ার স্টাডিজ (CJWS) এবং আইডিএক্স (IDS)-এর সদর দফতর দ্বারা আয়োজিত এই বিশেষ সম্মেলনটি সাইবার-সক্ষম জ্ঞানীয় যুদ্ধের গভীরতা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম প্রদান করেছে। এই কর্মসূচিটি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ, নীতি নির্মাতা এবং গবেষকদের একত্রিত করে আধুনিক যুদ্ধের এই নতুন মাত্রার ওপর আলো পড়িয়েছে।
সম্মেলনের প্রধান বিষয় হিসেবে 'সাইবার-সক্ষম জ্ঞানীয় যুদ্ধ' নির্বাচিত হয়েছে, যা কেবল প্রযুক্তিগত ক্ষমতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এতে মানবিক মনস্তাত্ত্বিক উপাদান এবং ডিজিটাল তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কলাকৌশলও অন্তর্ভুক্ত। বিশেষজ্ঞরা এই উপলক্ষে উল্লেখ করেছেন যে, জ্ঞানীয় যুদ্ধের অর্থ হলো শত্রুর চিন্তাধারা, বিশ্বাস এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা, যা বর্তমানে সাইবার প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে করা সম্ভব। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, ডিজিটাল বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা।
সেন্টার ফর জয়েন্ট ওয়ারফেয়ার স্টাডিজের প্রতিনিধিরা তাদের আলোচনায় জোর দিয়েছেন যে, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে এই নতুন বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তাদের কৌশলগুলো গঠন করতে হবে। তারা জানিয়েছেন যে, এখন ঐতিহ্যবাহী সামরিক শক্তির পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষমতার একীভূতকরণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আইডিএক্সের বিশেষজ্ঞরাও এতে সম্মতি প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, জ্ঞানীয় ডোমেইনে (Cognitive Domain) জয় অর্জনের জন্য, সৈন্যদেরকে কেবল অস্ত্র নয়, বরং ডিজিটাল বুদ্ধিমত্তায়ও দক্ষ হতে হবে।
সম্মেলনের সময় বেশ কয়েকটি কর্মশালা এবং প্যানেল আলোচনা আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা এবং বৈশ্বিক প্রবণতার বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়েছেন যে, সাইবার-সক্ষম জ্ঞানীয় যুদ্ধ একটি বিকল্প নয়, বরং এটি একটি অপরিহার্যতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে, সরকারকে সাইবার আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং নাগরিকদের মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, ভবিষ্যতের সংঘাতগুলোতে যেখানে ভৌত সীমানা টিকে থাকবে, সেখানে ডিজিটাল এবং মানসিক সীমানা রক্ষাই সফলতার প্রধান মানদণ্ড হবে। সেন্টার ফর জয়েন্ট ওয়ারফেয়ার স্টাডিজ এবং আইডিএক্স-এর এই সহযোগিতা স্পষ্ট করেছে যে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বাস্তবসম্মত কৌশল বিকাশের জন্য একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
সম্মেলনের সমাপ্তিতে, একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে ভবিষ্যতে এমন আরও গবেষণা-নির্ভর সভা আয়োজন করা হবে, যাতে দেশের প্রতিরক্ষা নীতিকে তাত্ত্বিক এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের সাথে সামঞ্জস্য রেখে হালনাগাদ করা যায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ভারত এই নতুন যুদ্ধের প্রকৃতি বুঝে তার জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।