সরকার রোডটেপি (রপ্তানি পণ্যে শুল্ক ও করের ছাড়) পরিকল্পনা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে
কেন্দ্র সরকার রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলিকে সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রপ্তানিকৃত পণ্যের উপর শুল্ক ও করের ছাড় (RODTEP) পরিকল্পনাটি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেছে। এই পদক্ষেপে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
ভারতের অর্থনীতিকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করার এবং রপ্তানি প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করার জন্য কেন্দ্র সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক ও করের ছাড় (রোডটেপি) প্রকল্পের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ভারতীয় পণ্যগুলোকে বিশ্ববাজারে কম দামে বিক্রি করা, যার জন্য পণ্যগুলোর ওপর প্রযোজ্য অন্তর্নিহিত কর ও শুল্ক ফেরত দেওয়া হয়।
রোডটেপি প্রকল্প দেশের বিদেশি বাণিজ্য নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার লক্ষ্য ভারতীয় নির্মাতাদেরকে স্বস্তি প্রদান করা এবং তাদের পণ্যগুলোর বিশ্বব্যাপী গৃহীততা বৃদ্ধি করা। এই প্রকল্প নিশ্চিত করে যে রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর কোনো আন্তর্জাতিক চাপ পড়ে না এবং ভারতীয় কোম্পানিগুলো অন্যান্য দেশের পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে। সরকারের এই সম্প্রসারণের অর্থ হলো, আগামী কয়েক বছর ধরে রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলো এই শক্তিশালী নীতিগত কাঠামোর অধীনে কাজ করতে পারবে, যার ফলে বিনিয়োগ এবং উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রেই স্থিতিশীলতা আসবে।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রোডটেপি প্রকল্পকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতের, বিশেষ করে তৈরি ও সেবা খাতেরকে সরাসরি সুবিধা দেবে। এই পদক্ষেপটি কেবল বর্তমান রপ্তানিকারকদের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়, বরং নতুন শিল্পগুলোর ভারতকে তাদের প্রধান সরবরাহ শৃঙ্খল হিসেবে বেছে নেওয়ার উৎসাহও জাগাবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অনিশ্চয়তা এবং বাণিজ্যিক যুদ্ধের মাঝে, এমন করণীয় পদক্ষেপ ভারতীয় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক প্রমাণিত হবে।
প্রকল্পের আওতায়, যখনই কোনো পণ্য ভারত থেকে বিদেশে পাঠানো হয়, তখন সেই পণ্যের নির্মাণে ব্যবহৃত মূল উপকরণ, শক্তি এবং সেবায় প্রযোজ্য অন্তর্নিহিত করের (embedded taxes) ছাড় দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় পণ্যের মোট খরচ কমে যায়, যার ফলে তা আন্তর্জাতিক বাজারে সস্তা এবং আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত 'মেক ইন ইন্ডিয়া' এবং 'অতিরিক্ত মেক ইন ইন্ডিয়া' উদ্যোগকে আরও গতি দেবে।
এই সম্প্রসারণ দেশের আগামি বিদেশি বাণিজ্য সম্পর্ককেও শক্তিশালী করবে। রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলো এখন দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবে, কারণ প্রকল্পটি হঠাৎ সমাপ্ত বা পরিবর্তিত হওয়ার ঝুঁকি তাদের চোখে দেখা যাচ্ছে না। এই স্বচ্ছ এবং স্থিতিশীল নীতিগত পরিবেশ বেসরকারি খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে। অবশেষে, রোডটেপি প্রকল্পকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক বিকাশ এবং বিদেশি মুদ্রা আয় বৃদ্ধির দিকে একটি ইতিবাচক এবং অপরিহার্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে যে ভারতীয় রপ্তানি আমদানির তুলনায় সর্বদা এগিয়ে থাকবে এবং দেশের শীশেতে নমির (বৈদেশিক মুদ্রার) পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকবে।