ডিআরআই প্রায় ৬.২ কিলোগ্রাম বিদেশি মূলের সোনা জব্দ করেছে; মালিকবিহীন সামগ্রীর মাধ্যমে সোনার পাচারের একটি পরিশীলিত পদ্ধতির ভাঙচুর করেছে; তিনজন গ্রেপ্তার
ডিআরআই মালিকবিহীন সামগ্রীর মাধ্যমে সোনার পাচারের একটি জটিল ও পরিশীলিত পদ্ধতি উন্মোচন করে প্রায় ৬.২ কিলোগ্রাম বিদেশি মূল্যের সোনা জব্দ করেছে। এই মামলায় পাচার কার্যক্রমে জড়িত তিনজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
Journalism India··1 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স ওয়ান বিভাগ (ডিআরআই) একটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে, যেখানে বিদেশি মূলের প্রায় ৬.২ কিলোগ্রাম সোনা জব্দ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত পরিশীলিত ও চতুর পাচার পদ্ধতির ভাঙনের ফল, যেখানে পাচারকারীরা বড় পরিমাণে সোনা চোরাচালান করতে 'বিনা মালিকের সামগ্রী' (Unclaimed Goods) ব্যবহার করেছিল। আমদানি শুল্ক এড়াতে এবং নিরাপত্তা পরীক্ষায় ধরা পড়া থেকে বাঁচতে এই প্রযুক্তি প্রায়ই আন্তর্জাতিক পাচার কার্যক্রমে দেখা যায়, কিন্তু এইবার ডিআরআইয়ের নিবেদিত দল এই চতুরতাকে নষ্ট করে দিয়েছে।
ডিআরআইয়ের বিশেষ তদন্ত দল গভীর বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বড় ধরপাকড় করেছে। তদন্তের সময় প্রকাশ পায় যে পাচারকারীরা সোনার লতা ও অন্যান্য গহনা এমন কন্টেইনার বা প্যাকেজে লুকিয়ে রেখেছিল, যেগুলিতে মালিকের কোনো স্পষ্ট নাম বা ঠিকানা ছিল না। প্রায়ই এমন 'বিনা মালিকের সামগ্রী' কাস্টম কর্তৃপক্ষ সরাসরি গুদামে রাখে বা কিছু সময় পরে নিলামের জন্য রাখে, ফলে এগুলোর বিস্তারিত তদন্ত এড়িয়ে যায়। পাচারকারী এই খারাপ অভ্যাসের সুবিধা নিয়ে ব্যয়বহুল ধাতু সীমান্ত পেরোতে চেষ্টা করে।
তবে, ডিআরআইয়ের কর্মকর্তারা এই বেনামী সামগ্রী বিশ্লেষণ করে সন্দেহের দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্ত করেছেন। এক্স-রে স্ক্যানিং ও হ্যান্ডলিংয়ের সময়ই এই সামগ্রীর ভিতর থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার হয়। জব্দকৃত সোনার মোট পরিমাণ প্রায় ৬.২ কিলোগ্রাম বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার বর্তমান বাজার মূল্যে বিশাল অর্থ রয়েছে। জানা গেছে যে এই সোনা বিদেশি মূলের ছিল, যা আইনগত সংস্থার মাধ্যমে আমদানি করা হয়নি।
এই ঘটনার সমাধানের অংশ হিসেবে, ডিআরআই তিনজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে যারা পাচার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। পুলিশ ও কাস্টম প্রশাসনের সহযোগিতায় সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট নথি ও যোগাযোগ মাধ্যমও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত পাচারকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, যেখানে এই পাচার নেটওয়ার্কের পেছনে কোন বড় খেলোয়াড়রা ছিল এবং এই সোনা দেশের কোন অংশে বিক্রি হওয়ার কথা ছিল তা বের করার চেষ্টা চলছে।
ডিআরআইয়ের প্রবক্তা জানিয়েছেন যে বিদেশি মূলের সোনার পাচার কেবল নগদ প্রবাহে খারাপ প্রভাব ফেলে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তারও সংকেত দেয়। বেনামী সামগ্রীর মাধ্যমে পাচারের এই পরিশীলিত পদ্ধতি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের দিকে ইঙ্গিত করে, যার জন্য ডিআরআই তাদের তদন্ত প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে। এখন মামলার তদন্ত চলাকালে আরও প্রকাশ হতে পারে, কারণ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন যে এই পাচার র্যাকেটের সাথে যুক্ত অন্যান্য মাফিয়াগুলিকেও ন্যায়বিচারের চক্রে আনা হয়। এই পদক্ষেপটি ফোরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (FEMA) ও কাস্টম অ্যাক্টের অধীনে নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনি পদক্ষেপ চলমান থাকবে।