বায়ু মান ব্যবস্থাপনা কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের দল পাঞ্জাবের সঙ্গরুর, পটিয়ালা এবং মালিরকোতলায় ধানের খেতের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিগুলো পর্যালোচনা করেছে।
বায়ু মান ব্যবস্থাপনা কমিশন (CMAQ)-এর বিশেষজ্ঞ দল পঞ্জাবের সঙ্গরুর, পটিয়ালা এবং মালেরকোটালা জেলায় ধানের খেতের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনার বর্তমান পদ্ধতিগুলির স্থানীয় পরিদর্শন করেছে। এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের কার্যকর সমাধান প্রদান করা এবং বায়ু দূষণ কমানোর জন্য সঠিক নীতিগত পরামর্শ প্রণয়ন করা।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
এনোভেম্বর ২০২৬ এর এই শেষ সপ্তাহে, বায়ু গুণমান ব্যবস্থাপনা কমিশন (CMAQ) এর একটি উচ্চস্তরীয় ও প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম দল পাঞ্জাবের প্রধান কৃষি অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করেছে। এই সফরের প্রধান গন্তব্য ছিল সাঙ্গরু, পাটিয়ালা ও মালেরকোটলা জেলা, যেখানে দলটি ধানের পালি ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন দিকের গভীর পর্যালোচনা করেছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল পরবর্তী ফসল কাটার মৌসুমে বায়ু গুণমান উন্নত করার জন্য বাস্তবসম্মত ও কার্যকর কৌশল চিহ্নিত ও শক্তিশালী করা।
পর্যালোচনার সময় CMAQ এর বিশেষজ্ঞরা কেবল বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার মাপেননি, বরং কৃষকদের সাথে সরাসরি আলাপও করেছেন। দলটি বুঝতে চেয়েছে যে কৃষকরা পালি ব্যবস্থাপনার আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণে কী কী বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। পাঞ্জাবের এই তিন জেলার ধান ক্ষেত্রের বিস্তার অত্যন্ত বেশি হওয়ায়, সেখানকার পরিস্থিতি রাজ্যের বাকি অংশের তুলনায় আরও চ্যালেঞ্জিং। তাই, এই অঞ্চলে করা পরিদর্শনকে পুরো রাজ্যের জন্য একটি নমুনা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
CMAQ এর দল বিশেষভাবে পালি ব্যবস্থাপনা যন্ত্রপাতি (পালি ব্যবস্থাপনা যন্ত্র) এর প্রাপ্যতা, কৃষকদের দ্বারা এদের নিয়মিত ব্যবহার, এবং এদের মেরামত সুবিধাগুলোর পরীক্ষা করেছে। এছাড়াও, জৈব সার উৎপাদন, পালির শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার, এবং অন্যান্য বিকল্প পদ্ধতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় স্তরে করা কিছু পরীক্ষামূলক প্রচেষ্টা ভালো ফল দিয়েছে, তবে এদের স্কেলেবিলিটি (বিস্তারণযোগ্যতা) ও খরচ কার্যকারিতা নিয়ে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন।
কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এই পর্যালোচনা কেবল পরিদর্শনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি সমন্বিত কর্ম পরিকল্পনা প্রস্তুত করা। এই পরিকল্পনায় কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও শিক্ষা প্রচারাভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে আসন্ন সেশনে খোলা আকাশে পালি পোড়ানোর ঘটনাগুলোতে বড় হ্রাস আনা যায়। পাঞ্জাব সরকার সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোও এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা জানিয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তারা CMAQ এর দলের দেওয়া সুপারিশগুলো তাদের কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করবে।
সাঙ্গরু, পাটিয়ালা ও মালেরকোটলায় করা এই সফরের ফলাফল CMAQ এর পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে, যেখানে এই পরিদর্শনগুলোর ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ প্রকাশ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কৃষকদের অংশগ্রহণ ও প্রযুক্তিগত সমাধানগুলো সঠিকভাবে যুক্ত করা হয়, তবে পাঞ্জাবের বায়ু গুণমান নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগে কেবল বায়ু দূষণ কমবে না, মাটির উর্বরতাও বজায় থাকবে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনশীলতার জন্যও উপকারী প্রমাণিত হবে।