ডাক্তার জিতেন্দ্র সিংহ ভারতীয় নবতন্ত্রের বাণিজ্যিকীকরণে গতি আনতে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে কৌশলগত স্বাধীনতার জন্য সক্ষমতা সম্প্রসারণের জন্য শিল্প জগতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন
ডা. জিতেন্দ্র সিংহ শিল্প জগতের প্রতি আবেদন করেছেন যে, তারা ভারতীয় উদ্ভাবন বাণিজ্যিককরণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করুক এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের কৌশলগত সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করতে প্রযুক্তিগত ক্ষমতা সম্প্রসারণ করুক।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
ভারতের অগ্রগতি এবং স্বনির্ভরতার প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করে, ডা. জিতেন্দ্র সিং শিল্প খাতকে ভারতীয় উদ্ভাবনের (Innovations) বাণিজ্যিকীকরণে নতুন গতি আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আগামী দশকে দেশের কৌশলগত সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং শক্তিশালী করতে প্রযুক্তিগত ক্ষমতা সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। ডা. সিংর মতে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে কেবল একটি অর্থনৈতিক মহাশক্তি হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে হবে, বরং বিশ্ব পর্যায়ে প্রযুক্তিগত এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিশ্চিত করতেও সক্ষম হতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে, ডা. জিতেন্দ্র সিং শিল্প খাতের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন যে, গবেষণা ও উন্নয়নের (R&D) ফলে প্রাপ্ত উদ্ভাবনগুলোকে কেবল ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়, বরং সেগুলোকে বাজারে নিয়ে আসতে এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল করতে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হবে। তিনি বলেছেন যে, উদ্ভাবনের প্রকৃত মূল্য তখনই প্রকাশ পায় যখন তা সাধারণ জনগণ, শিল্প এবং প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা জাতীয় খাতে তার প্রভাব ফেলে। যদি জাতীয় পর্যায়ে বিকশিত সমাধানগুলো দ্রুত গতিতে বাণিজ্যিকীকৃত না করা হয়, তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশ এই প্রযুক্তিগুলো গ্রহণ করে প্রতিযোগিতায় ভারতকে পেছনে ফেলে দিতে পারে।
২০৪৭ সালের লক্ষ্য তারিখকে মাথায় রেখে, ডা. সিং ক্ষমতা সম্প্রসারণকে (Capacity Expansion) একটি অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি শিল্প খাতকে আবেদন জানিয়েছেন যে, তারা ব্যক্তিগত বিনিয়োগ এবং সরকারি নীতিগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী সহযোগিতামূলক মডেল তৈরি করুক, যাতে দেশের প্রযুক্তিগত ক্ষমতায় ব্যাপক বৃদ্ধি সম্ভব হয়। এই সম্প্রসারণ কেবল আকারের ক্ষেত্রে নয়, বরং মান এবং উদ্ভাবনের গভীরতার ক্ষেত্রেও হতে হবে, যাতে ভারত কৌশলগত বিষয়ে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করতে পারে।
ডা. সিং আরও উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে, যেখানে প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো প্রধান, ভারতীয় শিল্প খাতকে তাদের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করতে হবে। তিনি বলেছেন যে, উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণে গতি আনলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক শক্তিও বাড়বে। শিল্প খাতের প্রতি তার আবেদন হলো, তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং সামরিক যন্ত্রপাতি নির্মাণের মতো সর্বশেষ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতীয় গবেষক এবং ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে সহযোগিতায় কাজ করুক।
শেষে, ডা. জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন যে, এই আহ্বানটি কেবল একটি পরামর্শ নয়, বরং ভারতের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধির জন্য একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে শিল্প খাত এই আহ্বানকে গুরুত্বের সাথে নেবে এবং ভারতীয় উদ্ভাবনকে বিশ্ব মঞ্চে সম্মানজনক স্থান অর্জনের জন্য তাদের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করবে, যাতে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের কৌশলগত সার্বভৌমত্ব অবিচল থাকে।