দিল্লি কাস্টম কর্মকর্তারা নতুন দিল্লি এয়ার কার্গো কমপ্লেক্সে আরেকটি বড় পাচার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করেছেন
দিল্লির কাস্টমস কর্মকর্তারা নতুন দিল্লি এয়ার কার্গো কমপ্লেক্সে একটি বড় মাত্রার অবৈধ আমদানির চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে অবৈধ পণ্যের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করেছেন।
Journalism India··1 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
নতুন দিল্লি, ২৩ অক্টোবর ২০২৬। দিল্লি কাস্টমস বিভাগের কঠোর নজরদারি এবং স্মার্ট অ্যানালিটিক্স টিমগুলো বুধবার নতুন দিল্লি এয়ার কার্গো কমপ্লেক্সে (Air Cargo Complex) বায়ু মাধ্যমে চোরাচালানের একটি বড় ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করেছে। এই পদক্ষেপটি কাস্টমস কর্মকর্তাদের সতর্কতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের একটি চমৎকার উদাহরণ, যা দেশের সীমান্ত এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার রক্ষায় সহায়তা করেছে।
সূত্রগুলোর মতে, দিল্লি কাস্টমসের বিশেষ দলগুলো বিদেশ থেকে আসা একটি কার্গো শিপমেন্টের ওপর কঠোর নজর রাখছিল। প্রাথমিক তদন্তের সময়ই কর্মকর্তারা প্যাকেজিং এবং ঘোষণাপত্রে (ডিক্লারেশন) অনিয়মের সন্দেহ পোষণ করেন। এরপর, শিপমেন্টটির বিস্তারিত তল্লাশি নেওয়া হলে এর ভেতর থেকে বিশাল পরিমাণে অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়, যা দেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে চোরাকারবাররা তাদের কার্যকলাপ লুকানোর জন্য যত জটিল কৌশলই অবলম্বন করুক না কেন, দিল্লি কাস্টমসের পেশাদার দল তাদের ধরে ফেলতে সক্ষম হয়।
এই বড় সাফল্যের পর, দিল্লি কাস্টমসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এটি পরামর্শ নেটওয়ার্কের একটি অংশ, যার আওতায় গত কয়েক মাস ধরে বিদেশ থেকে আসা সন্দেহজনক কার্গো শিপমেন্টগুলোর ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, এই শিপমেন্টগুলোর সাথে যুক্ত মোট মূল্য ও ওজনের মধ্যে পার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, যা কর্মকর্তাদের আরও তদন্তের উদ্বুদ্ধ করেছিল। বক্সগুলো খোলার পর, সেগুলোর ভেতরে লুকানো বস্তুগুলো সামনে আসে, যার ফলে একটি বড় হিসাব-নিকাশ প্রতারণা এবং কাস্টমস ডিউটি এড়ানোর চেষ্টা বাধাপ্রাপ্ত হয়।
দিল্লি কাস্টমস কমিশনারেটের মুখপাত্র এই ঘটনার মন্তব্য করে বলেছেন যে, সরকারের 'লকডাউন' না থাকলেও কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকলের আওতায় কোনো চোরাচালান কার্যকলাপ সফল হতে পারে না। তিনি জানিয়েছেন, উদ্ধার করা সামগ্রীর সম্ভাব্য মোট মূল্য এবং প্রদত্ত কাস্টমস ডিউটির পরিমাণের হিসাব করা হচ্ছে, যার পরে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে শুধুমাত্র করদাতাদের স্বার্থ রক্ষাই হয়নি, বরং দেশে অবৈধ বস্তুর প্রবেশ রোধেও কার্যকর ভূমিকা পালন করা হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও দিল্লি কাস্টমসের এই সফল পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই মামলায় সংশ্লিষ্ট শিপার এবং এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ শুরু করা হয়েছে। দিল্লি কাস্টমস বিভাগ ঘোষণা করেছে যে তারা এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং যেকোনো ধরনের চোরাচালান বা কাস্টমস নিয়মের লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনাটি শুধুমাত্র দিল্লির জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য একটি বার্তা যে সরকার চোরাচালানের বিরুদ্ধে তার দৃঢ়তা ও অবিচলতার সাথে কাজ করছে এবং এটি আসন্ন দিনগুলিতে আরও কঠোর নজরদারি নীতি গঠনে সহায়তা করেছে।