সিআইকিউএম এনসিআর-এ নির্দেশনা সংখ্যা ৯৮-এর অধীনে থাকা সমস্ত শিল্পের জন্য পিটি জেড ক্যামেরা-ভিত্তিক রিমোট মনিটরিং সম্প্রসারিত করেছে
ক্যাপিটাল রিজন এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট কর্পোরেশন (সিএকিউএম) এনসিআরের শহরতলি অঞ্চলে শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন ধাপ তুলেছে। নির্দেশ নম্বর ৯৮-এর আওতায় আসা সব কারখানার জন্য পিটিজেড ক্যামেরা-ভিত্তিক রিমোট মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যা শিল্প কার্যক্রমের উপর ২৪x৭ নজরদারি সম্ভব করবে।
Journalism India··1 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের বায়ু মান উন্নত করা এবং শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ক্যাপিটাল রিজিয়ন এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট কর্পোরেশন (সিআরইমসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এনসিআরের সেই সব অঞ্চলের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন 'ক্যামেরা-ভিত্তিক রিমোট মনিটরিং' ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করেছে, যা 'পিটিজেড' (Pollution Triggered Zone) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই উদ্যোগটি বিশেষভাবে সেই শিল্পগুলোর দিকে লক্ষ্য করে, যা সিআরইমসি-এর জারিকৃত 'নির্দেশ নম্বর ৯৮'-এর আওতায় পড়ে। এই নির্দেশে উল্লিখিত সমস্ত মানদণ্ড ও শর্ত পূরণকারী কারখানা ও ফ্যাক্টরির এখন এই নতুন নজরদারি ব্যবস্থায় সংযুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক।
এই নতুন মনিটরিং সিস্টেমের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দূষণ সৃষ্টিকারী কার্যকলাপের বাস্তব সময়ের (real-time) নজরদারি করা। এর অধীনে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদ এবং ধোঁা নির্গমনকারী নল (চিমনি) উচ্চ-রেজোলিউশন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা সরাসরি সিআরইমসি-এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের (control room) সাথে সংযুক্ত। এর ফলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করতে সক্ষম হন যে, কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি করে এমন কার্যকলাপ, যেমন ফিল্টার ছাড়া ধোঁা নির্গমন বা অনুমোদিত পরিমাণের বেশি কাঁচামাল পোড়ানো, করছে না।
সিআরইমসি-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, পিটিজেড অঞ্চলে বায়ু মান সূচক (AQI) প্রায়ই বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছায়, যার প্রধান কারণ হিসেবে শিল্প নির্গমনকে গণ্য করা হয়। নির্দেশ নম্বর ৯৮-এর আওতায় পড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে, কারণ এই অঞ্চলগুলো দিল্লি এবং আশেপাশের নগর পৌরসভার মধ্যে অবস্থিত। রিমোট মনিটরিংয়ের মাধ্যমে, যদি কোনো ক্যামেরা অনিয়মিত কার্যকলাপ শনাক্ত করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছে নোটিশ পাঠানো হয় বা প্রয়োজনে আর্বিট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
এই সম্প্রসারিত মনিটরিং সিস্টেম শুধুমাত্র দূষণ প্রতিরোধে সহায়ক নয়, বরং এটি একটি ডেটা-ভিত্তিক প্রমাণও প্রদান করে। আগে প্রায়ই শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মধ্যে দূষণের মাত্রা কত তা নিয়ে বিতর্ক হতো। এখন, ক্যামেরা ফুটেজ এবং অনলাইন ডেটার ভিত্তিতে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। সিআরইমসি সমস্ত সংশ্লিষ্ট শিল্প মালিকদেরকে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাদের প্ল্যান্টগুলোকে এই রিমোট মনিটরিং নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। যে শিল্প প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশ মান্য করবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিকল্প বিবেচনা করা হতে পারে।
এই পদক্ষেপটি দিল্লি এবং এনসিআরের বাসিন্দাদের জন্য একটি স্বস্তির খবর, কারণ এর মাধ্যমে শিল্প অঞ্চল থেকে নির্গত কালো ধোঁা এবং ক্ষতিকর কণাগুলোর ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সম্ভব হবে। সিআরইমসি দাবি করে যে, এই প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপের ফলে অঞ্চলের বায়ু মানে কাঠামোগত উন্নতি সম্ভব হবে। আগামী দিনে, এই মনিটরিং ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে, যার মধ্যে এআই (AI)-এর ব্যবহারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় সতর্কতা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার আশা করা হচ্ছে।