কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভারতীয় বন পরিষেবার মধ্য-ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছেন; সংরক্ষণ সম্পর্কিত সাফল্য এবং উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলির উল্লেখ করেছেন
কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী মঙ্গলবার ভারতীয় বন পরিষেবা (IFS)-এর মধ্য-ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এই সময়ে বন সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্যের অনন্য অবদান এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলোর উপর গভীর আলোচনা হয়, যেখানে প্রশিক্ষণকে আরও ব্যবহারিক ও আধুনিক করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
নতুন দিল্লি, ১২ অক্টোবর ২০২৬ — আজ, মঙ্গলবার, কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভারতীয় বন সেবা (IFS)-এর মধ্য-ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণে (Mid-Career Training) অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সাথে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপলক্ষে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সাথে পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী টেকসইতা এবং বন সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দেশের বন খাতে অর্জিত অগ্রগতির মূল্যায়ন করা এবং ভবিষ্যতের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করা।
বৈঠকের সময় মন্ত্রী ভারতীয় বন সেবার দল কর্তৃক সংরক্ষণ কাজে অর্জিত সাফল্যের প্রশংসা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে বনের ক্যানপি ডেনসিটি (Canopy Density) বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং জৈববৈচিত্র্য (Biodiversity) সংরক্ষণ ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতির উল্লেখ করেছেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, গত কয়েক বছরে দেশের বন খাতে আসা এই ইতিবাচক পরিবর্তনে IFS কর্মকর্তাদের নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম ও নিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি প্রশংসা করেছেন যে, বন সেবা শুধুমাত্র বন সংরক্ষণই করেনি, বরং স্থানীয় সম্প্রদায়কে বন-ভিত্তিক ব্যবসায় জড়িয়ে তাদের জীবিকাও মজবুত করেছে।
তবে, ইতিবাচক দিকগুলোর পাশাপাশি মন্ত্রী উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বন্যপ্রাণীদের আবাসে হ্রাস এবং বাড়ন্ত শহুরেীকরণের কারণে বন এলাকায় পড়া চাপ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রী বলেছেন যে, ভবিষ্যতে এই চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করার জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলোকে আরও ব্যাপক এবং প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ করার প্রয়োজন। তিনি IFS কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছেন যে, তারা রিমোট সেন্সিং, ড্রোন সার্ভে এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সের মতো সর্বশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বন ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ করুন।
এই বৈঠকে উপস্থিত মধ্য-ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তারাও তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। তারা অঞ্চলীয় স্তরে আসা কঠিনতা, বন্যপ্রাণী-মানব সংঘাত (Human-Wildlife Conflict) ব্যবস্থাপনা এবং বন ব্যবসা মডেলের সম্প্রসারণ সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে, প্রশিক্ষণে জলবায়ু-সংবেদনশীল বন ব্যবস্থাপনা (Climate-Sensitive Forest Management) এবং জৈব-অর্থনৈতিক মডেলিংয়ের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে তারা পরিবর্তনশীল জলবায়ু পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৌশল তৈরি করতে পারেন।
বৈঠকের সমাপ্তিতে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী সকল কর্মকর্তাদের বার্তা দিয়েছেন যে, ভারতীয় বন সেবা দেশের পরিবেশ সংরক্ষণের মেরুদণ্ড। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, মন্ত্রণালয় এই কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা নির্মাণ এবং অনুশীলনের জন্য সম্ভাব্য সব রিসোর্স সরবরাহ করবে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই দৃষ্টিভঙ্গি-সমৃদ্ধ বৈঠকের পর বন সেবার প্রশিক্ষণ নীতিগুলো আরও কার্যকর হবে, যার ফলে ভারত তার জলবায়ু-প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বন এলাকা (CLM) লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে। এই বৈঠকটি বন ব্যবস্থাপনা খাতে সহযোগিতা এবং নবাবিভাবের একটি নতুন দিক উপস্থাপন করেছে।