অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল, পিট্রোকেমিক্যাল এবং ম্যাটেরিয়াল টেকনোলজি গবেষণা, উন্নয়ন ও নবতন্ত্র (আরডিআই) প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
সরকার উন্নত রাসায়নিক, পেট্রোকেমিক্যাল এবং উপাদান প্রযুক্তিকে গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবন (আরডিআই) স্কিমের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে এই উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতে উদ্ভাবন ও গবেষণায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
ভারতের শিল্প নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে, সরকার উন্নত রাসায়নিক, পেট্রোরাসায়নিক এবং উপাদান প্রযুক্তিগুলিকে গবেষণা, উন্নয়ন এবং নবতন্ত্র (আরডিআই) প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো দেশের রাসায়নিক এবং উপাদান খাতে নবতন্ত্রকে উৎসাহিত করা, বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বৈশ্বিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আরডিআই প্রকল্পের আওতায় এই তিনটি প্রধান খাতকে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হবে, যার ফলে প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মূল্য-বৃদ্ধির (value addition) প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।
উন্নত রাসায়নিক এবং পেট্রোরাসায়নিক খাতকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এটি শিল্প উৎপাদন, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং নির্মাণ খাতে ভিত্তিগত ভূমিকা পালন করে। তবে, এখন পর্যন্ত এই খাতগুলিতে উচ্চ-মূল্যবান এবং উচ্চ-প্রযুক্তিগত পণ্য উৎপাদনের ক্ষমতা সীমিত ছিল। আরডিআই প্রকল্পের আওতায় এই খাতগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে কোম্পানিগুলিকে নতুন প্রযুক্তি বিকাশে, বিভিন্ন প্রয়োগের (applications) জন্য বিশেষ রাসায়নিক তৈরিতে এবং প্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধিতে আর্থিক ও প্রতিষ্ঠানগত সহায়তা পাবে। এর ফলে শুধুমাত্র আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোই নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ে বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
উপাদান প্রযুক্তি খাতও এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আধুনিক প্রকৌশল, প্রতিরক্ষা, মোটরযান এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য অপরিহার্য। হালকা, মজবুত এবং টেকসই উপাদান বিকাশে জোর দেওয়ার ফলে ভারত রণनीতিক সুবিধা অর্জন করবে। আরডিআই প্রকল্পের আওতায় এই খাতগুলিতে করা গবেষণায় ব্যয়ের একটি নির্দিষ্ট শতাংশের অংকটি ছাড় বা পূরণের (reimbursement) রূপে দেওয়া হতে পারে, যার ফলে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে উৎসাহিত হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো এই প্রকল্পের মাধ্যমে 'মেক ইন ইন্ডিয়া' এবং 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর দৃষ্টিভঙ্গিকে উপাদান বিজ্ঞান এবং রাসায়নিক প্রকৌশল খাতে বাস্তব রূপ দেওয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি আরডিআই প্রকল্পের আওতায় বাছাই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং সময়মতো পরিচালিত হয়, তবে উন্নত রাসায়নিক, পেট্রোরাসায়নিক এবং উপাদান প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের আকার কয়েক গুণ বাড়তে পারে। এর ফলে ভারতকে বিশ্ব পর্যায়ে একটি প্রধান রাসায়নিক কেন্দ্র (chemical hub) হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে। এই বাছাই থেকে স্পষ্ট হয় যে, দেশের নীতিগত অগ্রাধিকার এখন কেবল উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধিতে নয়, বরং প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ এবং গবেষণা-নির্ভর শিল্প বিকাশে কেন্দ্রীভূত। আগামী মাসগুলিতে, শিল্প প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থার মধ্যে যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করা হবে, যাতে এই তিনটি খাতে নবতন্ত্রের প্রসার গতি পায়। এই পদক্ষেপের ফলে ভারতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।