পর্যটন উন্নয়ন জনপ্রিয় স্থানগুলির বাইরে গিয়ে স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ তৈরি করতে হবে: কেন্দ্রীয় পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী শ্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত
কেন্দ্রীয় পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী শ্রী গজেন্দ্র সিং শেখাভাত স্পষ্ট করেছেন যে পর্যটনের উন্নয়নের উদ্দেশ্য কেবল বিখ্যাত স্থানগুলিকে প্রচার করা নয়, বরং স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
ভারতের পর্যটন খাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং বিকাশের কৌশল নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী শ্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত একটি গুরুত্বপূর্ণ মানচিত্র উপস্থাপন করেছেন। মন্ত্রী জি জোর দিয়ে বলেছেন যে, পর্যটন উন্নয়ন শুধুমাত্র দেশের বিখ্যাত বা জনপ্রিয় ভৌগোলিক স্থানগুলিতে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়, বরং এর প্রকৃত উপকার স্থানীয় সম্প্রদায়গুলির কাছে পৌঁছানো উচিত। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, পর্যটন শিল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।
শ্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত নিজের কথা বলার সময় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যদি পর্যটনের লাভ শুধুমাত্র কিছু নির্বাচিত স্থানগুলিতেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সামগ্রিক অর্থনীতি তার পূর্ণ উপকারিতা পায় না। এর পরিবর্তে, সরকারের নীতিগুলির লক্ষ্য হলো পর্যটনের সুবিধা এবং কার্যকলাপ সেই এলাকাগুলিতেও ছড়িয়ে দেওয়া, যেখানে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলি সক্রিয়ভাবে এর সাথে যুক্ত হতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি শুধুমাত্র পর্যটনকে একটি বাণিজ্যিক শিল্প হিসেবে নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিন হিসেবে দেখে।
মন্ত্রী জি উল্লেখ করেছেন যে, স্থানীয় সম্প্রদায়গুলি যখন পর্যটন খাতে যুক্ত হয়, তখন তাদের জন্য শুধুমাত্র নতুন কর্মসংস্থানের পথ খুলে যায় না, বরং তাদের ঐতিহ্যবাহী শিল্প, রীতি-নীতি এবং সংস্কৃতিকে বিশ্ব দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগও মিলে যায়। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসে এবং গ্রামীণ এলাকাগুলিতেও উন্নয়নের শক্তি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, সরকার এই দিকে কঠোর নিষ্ঠা এবং সংকল্পের সাথে কাজ করছে, যাতে পর্যটনের প্রভাব সর্বস্তরে প্রকাশ পায়।
শ্রী শেখাওয়াত তার ব্যাখ্যায় যোগ করেছেন যে, পর্যটনের সম্প্রসারণ শুধুমাত্র ভৌত কাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ক্ষমতা নির্মাণ (capacity building)-এর সাথেও সম্পর্কিত। স্থানীয় মানুষদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হোস্টিং, গাইডিং এবং অন্যান্য সেবা খাতে যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে তারা নিজেরা নিজের জমিতে জীবিকা উপার্জন করতে পারেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের 'উন্নত ভারত' লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করে, যেখানে প্রতিটি বাসিন্দা উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠেন।
সমাজের প্রতিটি শ্রেণিকে পর্যটনের সাথে যুক্ত করার এই প্রচেষ্টা একটি নতুন সংস্কৃতি গঠনের দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলি পর্যটন উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে ওঠে। মন্ত্রী জির এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট হয় যে, পর্যটন নীতিতে সম্প্রদায়-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে পর্যটনের মাধ্যমে সামাজিক সমতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি—দুটোই অর্জন করা সম্ভব হয়।