পোশাক মন্ত্রণালয় গান্ধী জয়ন্তীর উপলক্ষে বিশেষ অভিযান ৬-এর আওতায় পরিচ্ছন্নতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আয়োজন করেছে
পোশাক মন্ত্রণালয় গান্ধী জয়ন্তীর উপলক্ষে বিশেষ অভিযান ৬-এর আওতায় বিস্তৃত পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে, যেখানে কর্মচারীরা যৌথভাবে অফিস প্রাঙ্গণ পরিষ্কার রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
জাতীয় গান্ধী জয়ন্তীর পবিত্র উপলক্ষ্যকে স্মরণ করে, পোশাক মন্ত্রণালয় পরিচ্ছন্নতা ও পরিষ্কার-পরিছন্নতার বিষয়ে একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা 'বিশেষ অভিযান ৬'-এর আওতায় সমন্বিত পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আয়োজন করেছেন। এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কেবল অফিস প্রাঙ্গণের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা নয়, বরং গান্ধীজির জীবন-দর্শনে নিহিত 'পরিচ্ছন্নতা হি সেবা' মূলনীতিকে বাস্তবে রূপ দেওয়াও ছিল।
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই কার্যক্রমে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। কার্যক্রমের সময়, কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা দূর করে, মেঝে পরিষ্কার করা, কাগজের কচরা এবং অন্যান্য কঠিন বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, এবং বায়ুচলাচলযোগ্য এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পূর্ণ মনোযোগ দেন। বিশেষভাবে, মিটিং রুম, করিডোর এবং পাবলিক এরিয়ায় বিদ্যমান ময়লা দূর করার জন্য আলাদা আলাদা দল নিয়োগ করা হয়, যাতে প্রতিটি কোণ পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর থাকে।
পোশাক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই উপলক্ষে জানিয়েছেন যে, এই অভিযান কেবল এক দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী সংকল্পের শুরু। তিনি বলেছেন যে, পরিচ্ছন্নতা কেবল সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব যা প্রতিটি নাগরিকের, বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীদের উপর প্রযোজ্য। গান্ধীজির জন্মদিনে এই উদ্যোগটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কেবল অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতার সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং সমাজের সম্মিলিত কল্যাণের সাথে সম্পর্কিত।
কার্যক্রমের সময়, কর্মচারীরা নিজ নিজ ডেস্ক এবং কর্মক্ষেত্রের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিজেদের হাতে নিয়েছেন, যার ফলে একটি সম্মিলিত অনুভূতির বিকাশ ঘটেছে। এই প্রক্রিয়ায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিয়মগুলোর কঠোরভাবে পালন করা হয়েছে, যার মধ্যে প্লাস্টিক এবং অন্যান্য কচরাকে সঠিকভাবে ডাস্টবিনে ফেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল। মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনাও দিয়েছে যে, হিটিং, ভেন্টিলেশন এবং এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেমের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও এই অভিযানের অংশ, যাতে অফিস পরিবেশে বাতাসের মান বজায় থাকে।
এই বিশেষ অভিযান ৬ পোশাক মন্ত্রণালয়ের সাধারণ প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি একটি সচেতনতা অভিযানের ভূমিকাও পালন করছে। কর্মকর্তাদের মতে, যতক্ষণ অফিসের পরিবেশ পরিষ্কার ও শৃঙ্খলবদ্ধ থাকবে, কাজের মান ও উৎপাদনশীলতা উন্নত হবে। এইভাবে, গান্ধী জয়ন্তীর উপলক্ষে করা এই প্রচেষ্টা কেবল মন্ত্রণালয়ের ভবনকে পরিষ্কার করা হয়নি, বরং কর্মচারীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক দায়িত্বের অনুভূতিকেও মজবুত করেছে। আগামী দিনে মন্ত্রণালয় এই সংকল্প বজায় রেখে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শন এবং প্রশিক্ষণ সেশনের আয়োজন করার ইচ্ছা রাখে, যাতে 'স্বচ্ছ ভারত' স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়।