মোদি সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে বড় আঘাত, NCB-এর ‘অপারেশন ট্রায়ডেন্ট’-এর আওতায় ৩৮টি দল একই সময়ে অসম, মিজোরাম এবং মণিপুরের ৩৮টি স্থানে অভিযান চালায়
এনসিবি আসাম, মিজোরাম এবং মানিপুরে 'অপারেশন ট্রাইডেন্ট' এর অধীনে ৩৮টি স্থানে একসাথে ছাপেমারি করেছে, যেখানে ৩৮টি দল মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং মোদী সরকারের নরকোটিক্স ব্যবস্থার দক্ষতা প্রদর্শন করা হয়েছে।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
মোদি সরকারের নরকোটিক্স সিস্টেমের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় আঘাত এসেছে, যেখানে নরকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB) পরিচালিত বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’ এর অধীনে দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের সীমান্ত রাজ্যগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়েছে। এই যৌথ অভিযানের অধীনে NCB এর ৩৮টি ভিন্ন দল একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে তিনটি রাজ্য—অসম, মিজোরাম এবং মানিপুরে মোট ৩৮টি ভিন্ন স্থানে একসঙ্গে ছাপেমারি পরিচালনা করেছে। এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক স্তরে সক্রিয় ড্রাগ ট্রাফিকিং নেটওয়ার্কগুলোকে চূর্ণ করা এবং এই রাজ্যগুলোর মাধ্যমে হওয়া অবৈধ ড্রাগ সরবরাহকে রোধ করা।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই অভিযান অত্যন্ত সূক্ষ্মতা ও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’ নামকরণটি এর তীক্ষ্ণ ও ত্রিশ প্রধান দিকনির্দেশে বিস্তৃত প্রভাবকে প্রতিফলিত করে। NCB এই তিন রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় ড্রাগের প্রবেশ ও বিতরণের পথগুলো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার জন্য এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। অসম, মিজোরাম ও মানিপুরের মতো রাজ্যগুলোতে প্রায়ই বাংলাদেশ ও মিশরসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ড্রাগের অবৈধ প্রবেশের খবর আসে, তাই NCB এই এলাকাগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে নিয়েছে।
ছাপেমারির সময় NCB এর দলগুলো স্থানীয় পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সমন্বয় বজায় রেখেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এই অভিযানে কেবল বড় পরিমাণে মাদকপদার্থের বরামদগির আশা করা হচ্ছে না, বরং ড্রাগের ব্যবসায়ী জালির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। মোদি সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নরকোটিক্সের বিরুদ্ধে তার কঠোর নীতি প্রয়োগে গম্ভীরতা দেখিয়েছে, এবং NCB এর এই ধরনের একসঙ্গে বহু স্থানে চলমান ছাপেমারি এই নীতির বাস্তব রূপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
স্থানীয় জনগণ ও স্থানীয় প্রশাসন NCB এর এই দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এই অভিযান দেখায় যে সরকার ড্রাগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনো সমঝোতা করছে না। NCB এর অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’ এর অধীনে করা ছাপেমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের তথ্য শীঘ্রই দেওয়া হবে। এই অভিযানে স্পষ্ট হয় যে NCB ড্রাগের ব্যবসায়িক চক্র ভাঙতে এবং সমাজকে ড্রাগের মন্দ থেকে রক্ষা করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করছে।
অসম, মিজোরাম ও মানিপুরের মতো সীমান্ত রাজ্যগুলোতে ড্রাগের সমস্যাকে কমাতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হচ্ছে। NCB এর ৩৮টি দলের একসঙ্গে সক্রিয়তা ড্রাগ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে দিয়েছে, কারণ এখন তারা জানে যে NCB এর নজরদারি যেকোনো জায়গায় হতে পারে। এই অভিযান কেবল আইন প্রয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি দেশের নিরাপত্তা ও সমাজের স্বাস্থ্যের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। আগামি দিনগুলোতে এই অভিযানের ফলাফল থেকে ড্রাগ নেটওয়ার্কের পরবর্তী প্রচেষ্টায়ও গভীর প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।