'নশা-মুক্ত যুব, উন্নত ভারত' প্রতিযোগিতায় ১৬,৫১৭ জনেরও বেশি নাগরিক অংশগ্রহণ করেছেন
‘নশা মুক্ত যুব, বিকশিত ভারত’ বিষয়ে আয়োজিত প্রশ্নোত্তরে দেশজুড়ে ১৬,৫১৭-এরও বেশি নাগরিক সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন, যার ফলে যুব সমাজে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।
Journalism India··0 ভিউ·2 মিনিট পড়ুন
অক্টোবর ২০২৬-এ, স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণ বিভাগ দ্বারা আয়োজিত 'নেশা মুক্ত যুব, বিকশিত ভারত' বিষয়ক প্রশ্নোত্তরের পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে মোট ১৬,৫১৭-এরও বেশি নাগরিক অংশগ্রহণ করেছেন। এই উদ্যোগটি দেশের যুব সমাজে নেশার মারাত্মক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ জীবনযাপনকে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রশ্নোত্তরে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিযোগী ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ছিলেন, যা সমাজের মেরুদণ্ড হিসেবে গণ্য এই বয়সভিত্তিক দলকে নির্দেশ করে।
প্রতিষ্ঠাতা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রশ্নোত্তরের মূল উদ্দেশ্য কেবল তথ্যের পরীক্ষা নয়, বরং নেশার আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার ব্যবহারিক উপায় এবং মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বোঝানো ছিল। প্রশ্নোত্তরে অন্তর্ভুক্ত প্রশ্নগুলো নেশা প্রচার, এর চিকিৎসাগত ঝুঁকি, সমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব এবং স্বনির্ভরতার মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপনের পদ্ধতি নিয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল। ১৬,৫১৭-এরও বেশি অংশগ্রহণ এটি স্পষ্ট করে যে, নাগরিকদের মধ্যে এই অভিযানের প্রতি একটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং গভীর আগ্রহ রয়েছে।
তবে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শুধুমাত্র প্রচার এবং সচেতনতা অভিযানের পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রতিষ্ঠানগত পরিবর্তনেরও প্রয়োজন। অনেক জেলায় প্রশ্নোত্তরের পরপরই আলোচনা সেশন এবং পরামর্শ সেবার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে অংশগ্রহণকারীদের নেশা থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করা যায়। এই প্রচেষ্টায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিদ্যালয়গুলোও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, যার ফলে গ্রামীণ এবং শহুরে উভয় অঞ্চলে এই বার্তা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলোর মতে, 'নেশা মুক্ত যুব, বিকশিত ভারত'-এর এই প্রথম পর্যায়টি সফল হয়েছে এবং ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে এটি আরও ব্যাপক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য হলো, পরবর্তী বছরগুলিতে অংশগ্রহণ হ্রাস না পেয়ে বরং বৃদ্ধি পাওয়া, যাতে নেশা-মুক্ত সমাজ গঠনের দিকে শক্ত ভিত্তি স্থাপন করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতক্ষণ যুব সমাজ সুস্থ এবং উৎপাদনশীল থাকবে, ততক্ষণ 'বিকশিত ভারত'-এর স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।
এই প্রশ্নোত্তরে অংশ নেওয়া অনেক মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমের মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এবং তাদের আশেপাশের মানুষদেরকেও এই অভিযানে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই প্রবণতা প্রদর্শন করে যে, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সামাজিক অভিযানের সমন্বয় কতটা কার্যকরী হতে পারে। ভবিষ্যতে, দেশের বিভিন্ন ভাষাভাষী অঞ্চলে এই প্রশ্নোত্তর স্থানীয় ভাষায়ও আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে ভাষাভাষিক বাধা দূর করে প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছানো যায়। 'নেশা মুক্ত যুব, বিকশিত ভারত'-এর এই বার্তা এখন কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং একটি জাতীয় আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে, যেখানে ১৬,৫১৭-এরও বেশি নাগরিকের অংশগ্রহণ এর প্রাথমিক সফলতার প্রমাণ।